নেপালে ভয়ংকর হড়পা বান! নিখোঁজ ১০০-র বেশি ভারতীয়, জারি হাই অ্যালার্ট

তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন নেপালের উত্তরাঞ্চলের রাসুয়া জেলায় নেমে এল এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়। বৃহস্পতিবার সকালে হড়পা বানের কবলে পড়ে সম্পূর্ণ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ওই এলাকা। জলের তোড়ে ভেসে গেছে বহু ঘরবাড়ি, গাড়ি এবং সেতু। এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ। এর মধ্যে প্রায় ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিকেরও কোনও খোঁজ মিলছে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, তিব্বতের দিক থেকে হড়পা বানের জল এসে ভোটে কোসি নদীতে প্রবেশ করার ফলে টিমুরে এবং স্যাপ্রু বেসি এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে গিরিয়ং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ধস নামায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি পুলিশ পোস্টের পাশাপাশি টিমুরেতে মোতায়েন থাকা নেপাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের ৯ জন সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন।

বিপর্যয়ের সম্ভাব্য কারণ ও উদ্ধারকাজ

হড়পা বানের সঠিক কারণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও, আবহাওয়াবিদদের প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত বৃষ্টির পাশাপাশি হিমবাহের হ্রদ ভেঙে এই বিপুল পরিমাণ জল নেমে এসেছে। উপগ্রহচিত্রে তিব্বতের দিকে ব্যাপক বৃষ্টির ছবি ধরা পড়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে নেমেছে নেপাল সরকার। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠক করে উদ্ধারকাজ পর্যালোচনা করেছেন। পুলিশ, সেনা এবং আর্মড পুলিশ ফোর্স যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। তবে স্যাপ্রু বেসি ও টিমুরে এলাকায় জলের স্তর এতটাই বেশি যে অনেক জায়গায় উদ্ধারকারী কপ্টার নামানো সম্ভব হচ্ছে না। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও তিব্বতে নিখোঁজদের সন্ধানে সর্বাত্মক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিহারে বাড়তি সতর্কতা

নেপালের এই ভয়াবহ বন্যার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে ভারতীয় সীমান্ত রাজ্য বিহারে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যসচিব জেলাশাসকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন এবং গণ্ডক ও কোসি নদী অববাহিকার জেলাগুলিতে বিশেষভাবে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নেপালের জল নিচের দিকে ত্রিশূলী নদী হয়ে গণ্ডক নদী হিসেবে ভারতে প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকায় নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।