টোটোর পর এবার কড়া পদক্ষেপ! রাজ্যে কি পাকাপাকিভাবে নিষিদ্ধ হতে চলেছে ইঞ্জিন ভ্যান?

শহরের রাস্তায় টোটো নিয়ে কড়াকড়ির পর এবার রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থার আরও গভীরে বড়সড় বদলের পথে হাঁটল প্রশাসন। রাজ্যের নতুন সরকারের স্পষ্ট বার্তা, এবার থেকে মূল রাস্তায় শুধু টোটো নয়, বন্ধ থাকবে ইঞ্জিন ভ্যানও। সম্প্রতি উত্তরপাড়ায় একটি রেল ডিজাইন ও অপারেশন সেন্টারের উদ্বোধনে গিয়ে এই নির্দেশিকার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং।
ইঞ্জিন ভ্যান বন্ধ করার পক্ষে জোাল সওয়াল করে মন্ত্রী জানান, এই ধরনের গাড়িগুলির কোনও বৈধ রেজিস্ট্রেশন থাকে না। ফলে রাস্তায় কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে চালক বা যাত্রীরা বিমার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এছাড়া যাত্রী ও চালকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অভাব তো রয়েছেই, পাশাপাশি এই গাড়িগুলি থেকে ব্যাপক মাত্রায় পরিবেশ দূষণও ছড়ায়।
চালকদের জন্য কী বিকল্প ভাবছে সরকার?
হঠাৎ করে ইঞ্জিন ভ্যান বন্ধ করে দিলে জীবিকা হারাতে পারেন বহু মানুষ। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে চালকদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাসও দিয়েছেন পরিবহণ মন্ত্রী। চালকদের জন্য ১ থেকে দেড় মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তাঁদের পিকআপ ভ্যান কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক সংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার সাহায্য করবে রাজ্য সরকার। তবে মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই বৈধ রেজিস্ট্রেশন, বিমা এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হবে। সরকারি নিয়মে গাড়ি চালালে চালকদের আর কোনও ইউনিয়ন বা দালালের কাছে অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না।
পাশাপাশি, প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ১০০টি করে অটো এবং ৮-৯ আসনের ম্যাজিক গাড়িকে পারমিট দেওয়ার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। তবে এর জন্য আবেদনকারীদের সমস্ত সরকারি নিয়ম মেনে অনুমতি নিতে হবে।
আসলে কী এই ইঞ্জিন ভ্যান?
মূলত গ্রামাঞ্চল এবং শহরতলির অন্দরে এই ইঞ্জিন ভ্যানগুলির যাতায়াত বেশি দেখা যায়, কলকাতা শহরে এগুলির উপদ্রব সেভাবে নেই। সাধারণ পা-চালিত ভ্যানের কাঠামোর নীচেই ডিজেল চালিত ইঞ্জিন ফিট করে এই গাড়িগুলি তৈরি করা হয়। শহরতলির ছোট দোকানে পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি একটি ভ্যানে একসঙ্গে ৮ থেকে ১০ জন যাত্রীও ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
কী বলছেন ভ্যান চালকরা?
হঠাৎ এমন ঘোষণায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে চালকদের কপালে। মধ্যমগ্রামের এক ইঞ্জিন ভ্যান চালক তপন সরকার জানান, মাত্র কয়েক মাস আগে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি একটি ইঞ্জিন ভ্যান কিনেছেন। ঋণের কিস্তি এখনও মেটানো শেষ হয়নি। হঠাৎ গাড়ি বন্ধ হলে সংসার চালানো নিয়ে বড় সংকটে পড়বেন তিনি। তবে একই সঙ্গে সরকারের আর্থিক সহযোগিতার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, সরকার যদি পিকআপ ভ্যান কেনার জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করে কিংবা ভর্তুকি দেয়, তবে তা চালকদের জন্য অনেকটাই সুবিধাজনক হবে।