স্বামীজির পোস্টার ছিঁড়ে চরম ঔদ্ধত্য! সামসি কলেজে TMC ছাত্র পরিষদের কীর্তিতে ফুঁসছে রাজনৈতিক মহল!

শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা রক্ষা নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে একের পর এক বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই চরম অবমাননাকর ও লজ্জাজনক এক ঘটনার সাক্ষী থাকল মালদহের সামসি কলেজ। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় হু হু করে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরেই বর্তমানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) একটি দলীয় পতাকা জুতোর নিচে ফেলে নির্মমভাবে ঘষে পদদলিত করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি ভারতীয় আধ্যাত্মিকতার প্রতীক স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া বিশেষ পোস্টারও অবলীলায় ছিঁড়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। যদিও গণমাধ্যমে প্রচারিত এই ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে পৃথকভাবে নিরপেক্ষ যাচাই করা হয়নি, তবুও এই জঘন্য দৃশ্য সামনে আসতেই তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

এবিভিপি-র তরফ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত ওই দুই কলেজছাত্রের নাম দেবজিৎ সাহা (যিনি ঋজু নামেও পরিচিত) এবং অরিজিৎ রবিদাস। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত তথা টিএমসিপি সদস্য তারেক আনোয়ার সম্পূর্ণ বেপাত্তা রয়েছে। তবে পুলিশের জালে পড়ার আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে তাকে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে দেখা গিয়েছে। তা সত্ত্বেও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুত গ্রেফতারির দাবি তুলেছে ক্ষুব্ধ এবিভিপি নেতৃত্ব।

এই চরম বিশৃঙ্খলার বিষয়ে মুখ খুলেছেন কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, কলেজে যেকোনো ছাত্র সংগঠন করার স্বাধীনতা সকলেরই রয়েছে, কিন্তু এই ধরনের অরাজকতা ও নোংরা মানসিকতা বরদাস্ত করা হবে না; আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, পুরো ঘটনা থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করে কলেজের প্রাক্তন টিএমসিপি সভাপতি প্রসূন রায় দাবি করেছেন যে অভিযুক্ত তারেক আনোয়ার বলে কাউকে তিনি চেনেন না এবং বর্তমানে ওই কলেজে তাদের কোনো সক্রিয় কমিটিও নেই।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে বাংলার রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গন। ইতিপূর্বেই মেদিনীপুর কলেজ চত্বরে এবিভিপি এবং এসএফআই (SFI)-এর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ রাজ্যবাসীকে হতবাক করেছিল। যাদবপুরকাণ্ডের প্রতিবাদে এসএফআইয়ের কর্মসূচি চলাকালীন দুই পক্ষের মধ্যে কিল, চড় ও ঘুষির লড়াই বেধে যায়। প্রতিবাদী কর্মসূচির মাঝেই বহিরাগতদের মদতে কলেজে ঢুকে হামলা চালানোর পালটা অভিযোগ তোলে বাম ছাত্র সংগঠন। একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ধরনের রাজনৈতিক হানাহানি ও অবমাননাকর ঘটনা ছাত্রসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গভীর ও আশঙ্কাজনক প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে দিয়েছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty