বিদেশের অতিথিদের প্লেটে পচা খাবার ও আরশোলা! ব্রিকস সম্মেলনের আগে দিল্লির অভিজাত হোটেলে চরম কেলেঙ্কারি

ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে আসা বিদেশি ভিভিআইপি ও অতিথিদের অভ্যর্থনার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল রাজধানীর একাধিক অভিজাত হোটেল। কিন্তু তার আগেই সেই সমস্ত বিলাসবহুল হোটেলের অন্দরে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে যে ভয়াবহ ছবি সামনে এল, তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের (FSSAI) সাম্প্রতিক আকস্মিক পরিদর্শনে দিল্লির নামী হোটেলে চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও চরম গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে।
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, এরোসিটির স্বনামধন্য হোটেলগুলিতে চালানো অভিযানে একাধিক গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়েছে। গত ২২ জুন ‘আন্দাজ দিল্লি’ (Andaz Delhi) হোটেলে পরিদর্শনের সময় প্রায় ৮৭ কেজি মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি উদ্ধার করা হয়, যা তৎক্ষণাৎ ধ্বংস করা হয়। শুধু তাই নয়, দুটি পাউরুটির প্যাকেটেও টপকে গিয়েছিল ব্যবহারের মেয়াদ। রান্নাঘরের অন্দরে নিরামিষ ও আমিষ খাবার কাটার বোর্ড একই জলের পাত্রে ধোয়া থেকে শুরু করে কেক তৈরির উপকরণের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী, এমনকী মাছি ও আরশোলার অবাধ বিচরণ নজরে আসে আধিকারিকদের।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় ২৪ ও ২৫ আগস্ট চালানো পরবর্তী অভিযানে। ওই হোটেলের রান্নাঘর ও বেকারির অন্দরে একসঙ্গে মোট ৫৯টি গুরুতর গাফিলতি চিহ্নিত করা হয়। রান্নাঘর জুড়ে আরশোলা, সবজি ও ফলের অংশে ভনভন করছে মাছি, নোংরা বাসনপত্র এবং খাবারে মিলছে মানুষের চুল। এছাড়া বেশ কয়েকটি ফ্রিজ ও কোল্ড স্টোরেজে জল পড়ার সমস্যা এবং পচা আপেল-টমেটোর মতো সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আমিষ ও নিরামিষ খাবার আলাদা না রেখে খোলা অবস্থায় রাখা এবং কর্মীদের গ্লাভস বা মাথা ঢাকার সঠিক ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ করার মতো মারাত্মক অনিয়ম সামনে এসেছে। এমনকি এক কর্মীর শরীরে খোলা ক্ষত থাকা সত্ত্বেও তিনি রান্না চালিয়ে যাচ্ছিলেন, যা অতিথিদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি ছিনিমিনি খেলার সমান। আন্তর্জাতিক স্তরের সম্মেলনের ঠিক আগে এই ধরনের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।