বড় মঞ্চে নামার ঠিক আগেই মর্মান্তিক স্বজনবিয়োগ! গভীর শোকে ভেঙে পড়লেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী গায়িকা ইমন চক্রবর্তী

আগামী ২৯ আগস্ট কলকাতার মহাজাতি সদনে আয়োজিত হতে চলেছে ‘পরম্পরা’। এই অনুষ্ঠানে ইমন সঙ্গীত অ্যাকাডেমির ১৫০-রও বেশি পড়ুয়া দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ ও রিহার্সালের পর মঞ্চে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে চলেছেন। কিন্তু এবারের ‘পরম্পরা’ জাতীয় পুরস্কারজয়ী গায়িকা ইমন চক্রবর্তীর কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং অন্য এক আবেগের জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। সংগীতের উত্তরাধিকার বহন করার পাশাপাশি বর্তমানে এক কঠিন ব্যক্তিগত সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁকে। কারণ, অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক মুখেই প্রয়াত হয়েছেন তাঁর বড় কাকা।

স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের এমন এক চরম শোকের আবহে দাঁড়িয়ে বড় কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সফলভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। একদিকে পরিবারের প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা, আর অন্যদিকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা নতুন প্রজন্মের একঝাঁক শিল্পীর স্বপ্ন—এই দুই বিপরীত আবেগ এসে মিলেছে ‘পরম্পরা’র মঞ্চে। তবে জীবনের এই কঠিনতম সময়েও সুরের পথ থেকে পুরোপুরি সরে না গিয়ে বরং সঙ্গীতের মধ্যেই নিজের মানসিক শক্তি খুঁজে নেওয়ার কঠিন চেষ্টা চালাচ্ছেন গায়িকা।

কাকার প্রয়াণে মন সম্পূর্ণ ভারাক্রান্ত থাকলেও কাজ ও শোকের ভারসাম্য বজায় রেখে ইমনের পরিষ্কার বার্তা, কাজের কথা আপাতত স্থগিত থাকবে এবং এই শোক কাটিয়ে উঠতে তাঁর কিছুটা ব্যক্তিগত সময়ের প্রয়োজন। গায়িকার কাছে ‘পরম্পরা’ নিছকই কোনো সাধারণ বার্ষিক অনুষ্ঠান নয়। নিজের প্রয়াত মা তথা প্রথম গুরু তৃষ্ণা চক্রবর্তীর কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা, মূল্যবোধ এবং সঙ্গীতের প্রতি আদি ও অকৃত্রিম নিষ্ঠাকে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। ছোটবেলা থেকেই মায়ের হাত ধরে তাঁর যে সুরের দুনিয়ায় পথচলা শুরু হয়েছিল, সেই উত্তরাধিকারই তিনি আজ নিজের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ব্যক্তিগত জীবনের এই গভীর শোককে বুকে চেপে রেখেই ইমন যখন আগামী দিনে সুরের মঞ্চে দাঁড়াবেন, তখন এই আয়োজন তাঁর জীবনের এক অত্যন্ত আবেগঘন এবং ব্যক্তিগত অধ্যায়ে পরিণত হবে।