আসছে ফোল্ডেবল আইফোন! স্যামসাংয়ের ঘুম কাড়তে ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের মেগা ইভেন্ট, দাম জানলে চমকে যাবেন

অ্যাপল চলতি বছর অবশেষে ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের দুনিয়ায় পা রাখতে চলেছে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৯ই সেপ্টেম্বর কোম্পানির ফ্লাগশিপ ইভেন্টে তাদের বহু প্রতীক্ষিত প্রথম ফোল্ডেবল ডিভাইসটি উন্মোচিত হতে পারে, যার সম্ভাব্য নাম হতে যাচ্ছে ‘আইফোন ফোল্ড’ কিংবা ‘আইফোন আলট্রা’। বাজারে আসার আগেই এটি সরাসরি স্যামসাংয়ের শক্তিশালী ফোল্ডেবল ফোনের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফাঁস হওয়া তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই ডিভাইসটি সরাসরি স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ ৫জি-র মুখোমুখি দাঁড়াবে, যা চলতি বছরের ২২শে জুলাই ভারতে লঞ্চ হয়েছিল। ফোনটি এখনও বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে না আসলেও এর নজরকাড়া ফিচার ও স্পেসিফিকেশন নিয়ে টেক দুনিয়ায় ইতিমধ্যেই ঝড় উঠেছে। স্মার্টপ্রিক্সের বিস্তারিত রিপোর্টের ভিত্তিতে আইফোন ফোল্ড ও স্যামসাংয়ের এই প্রতিদ্বন্দ্বীর এক তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো।
ডিসপ্লের ক্ষেত্রে দুই ব্র্যান্ডই একে অপরকে শক্ত টক্কর দিচ্ছে। স্মার্টপ্রিক্সের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন আইফোন ফোল্ডে থাকতে পারে একটি আকর্ষণীয় ৭.৫৮-ইঞ্চি ওএলইডি ফোল্ডেবল ডিসপ্লে, যার রেজোলিউশন ১৯২০×২৭১৩ পিক্সেল এবং রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ। এর সর্বোচ্চ ব্রাইটনেস ২০০০ নিটস পর্যন্ত হতে পারে এবং এতে এইচডিআর১০+ ও ডলবি ভিশন সাপোর্ট মিলবে। অন্যদিকে, স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ ৫জি-তে রয়েছে ৭.৬-ইঞ্চি ডায়নামিক অ্যামোলেড ২এক্স ফোল্ডেবল ডিসপ্লে, যার রেজোলিউশন ১৮২৮×২৪৪৮ পিক্সেল এবং রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ। এলটিপিও প্রযুক্তিসম্পন্ন স্যামসাংয়ের এই স্ক্রিন সর্বোচ্চ ৩০০০ নিটস পর্যন্ত উজ্জ্বলতা প্রদানে সক্ষম। অর্থাৎ, স্ক্রিনের আকৃতি ও রিফ্রেশ রেট প্রায় কাছাকাছি হলেও আইফোন ফোল্ডের রেজোলিউশন কিছুটা বেশি এবং স্যামসাংয়ের ডিসপ্লে উজ্জ্বলতার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে।
প্রসেসর ও মেমোরির লড়াইয়ে অ্যাপল ও স্যামসাং উভয়েই তাদের সেরাটুকু দিয়েছে। ফাঁস হওয়া তথ্য বলছে, আইফোন ফোল্ড পরিচালিত হবে লেটেস্ট আইওএস ১৯ এবং একটি শক্তিশালী অক্টা-কোর প্রসেসরের মাধ্যমে, যদিও চিপসেটের সুনির্দিষ্ট নাম এখনও গোপন রাখা হয়েছে। বিপরীতে, গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ ৫জি-তে দেওয়া হয়েছে কুয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ প্রসেসর, যার সর্বোচ্চ ক্লক স্পিড ৪.৭৪ গিগাহার্জ এবং এটি একটি দুর্দান্ত অ্যাড্রেনো ৮৪০ জিপিইউ দ্বারা চালিত। তবে মেমোরির ক্ষেত্রে অ্যাপল বড় চমক দিতে চলেছে। আইফোন ফোল্ডে থাকছে বিশাল ১৬ জিবি র্যাম ও ৫১২ জিবি বেস স্টোরেজ, যেখানে স্যামসাংয়ের এই ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে ১২ জিবি র্যাম এবং ২৫৬ জিবি স্টোরেজ। ফলে র্যাম ও স্টোরেজ ক্যাপাসিটির বিচারে অ্যাপল স্পষ্টতই এগিয়ে রয়েছে।
ক্যামেরা সেটআপের ক্ষেত্রে উভয় ব্র্যান্ড সম্পূর্ণ ভিন্ন দর্শনের ওপর নির্ভর করেছে। আইফোন ফোল্ডে ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ থাকতে পারে, যার প্রতিটি সেন্সরই হবে ৪৮ মেগাপিক্সেলের—অর্থাৎ ওয়াইড, টেলিফটো এবং আল্ট্রা-ওয়াইড তিনটি লেন্সেই থাকছে সমান গুরুত্ব। সেলফির জন্য এতে ২৪ মেগাপিক্সেলের একটি ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল এবং একটি আন্ডার-ডিসপ্লে ক্যামেরা থাকার গুঞ্জন রয়েছে। অন্যদিকে, স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ ৫জি-তে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড সেন্সর, যা ২x অপটিক্যাল-কোয়ালিটি জুম এবং স্যামসাংয়ের নিজস্ব প্রোভিজুয়াল ইঞ্জিন সাপোর্ট করে। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের দিক থেকে স্যামসাং ৩০fps-এ দুর্দান্ত ৮কে পর্যন্ত রেকর্ড করতে পারে, যেখানে আইফোন ফোল্ড ৩০fps-এ ৪কে ভিডিও রেকর্ডিংয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে।
ব্যাটারি ও চার্জিংয়ের পরিসংখ্যানে স্যামসাং বর্তমানে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ ৫জি-তে রয়েছে শক্তিশালী ৪৮০০এমএএইচ ব্যাটারি, যা ৪৫ওয়াট ফাস্ট চার্জিং, ২০ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং এবং ৪.৫ওয়াট রিভার্স ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট করে এবং এর ভিডিও প্লেব্যাক টাইম ২৬ ঘণ্টা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে। যদিও আইফোন ফোল্ডের ব্যাটারির মিলিঅ্যাম্পিয়ার ক্ষমতা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এতে লি-আয়ন ব্যাটারি এবং ফাস্ট ও ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এআই ফিচারের ক্ষেত্রে স্যামসাং তাদের গ্যালাক্সি এআই (ফটো অ্যাসিস্ট এবং নাও নাজ সহ) নিয়ে অনেকদূর এগিয়ে রয়েছে। তবে অ্যাপল তাদের আসন্ন আইফোন ফোল্ডে আইওএস ১৯ ও অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে এই ফাঁক পূরণের চেষ্টা চালাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সবশেষে দামের কথা বললে, স্মার্টপ্রিক্সের মূল্যতালিকা অনুযায়ী আইফোন ফোল্ডের প্রারম্ভিক মূল্য ধার্য করা হয়েছে প্রায় ১,৯৯,৯৯০ টাকা থেকে। আর স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ ৫জি বাজারে এসেছে ১,৭৯,৯৯৯ টাকা প্রারম্ভিক মূল্যে। অর্থাৎ, প্রিমিয়াম ফোল্ডেবল সেগমেন্টে অ্যাপলের প্রথম এই ডিভাইসটির দাম স্যামসাংয়ের তুলনায় প্রায় কুড়ি হাজার টাকা বেশি হতে চলেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের অফিশিয়াল লঞ্চ ইভেন্টে অ্যাপল আর কী কী বিস্ময় নিয়ে হাজির হয়।