কোটি কোটি পুণ্যার্থীর সুরক্ষায় ২৪ ঘণ্টা কড়া পাহারা! শ্রাবণী মেলায় রেলের সেবায় মুগ্ধ ভক্তরা!

চলতি বছরের পবিত্র শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও পুণ্যার্থীর নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ এবং সম্পূর্ণ সুষ্ঠু যাত্রা সুনিশ্চিত করতে একের পর এক বিশেষ পরিষেবা চালিয়ে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে পূর্ব রেল। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডের সরাসরি নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানগুলিতে উপচে পড়া বিপুল যাত্রীচাপ সাফল্যের সঙ্গে সামলানোর পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা পরিষেবা, হুইলচেয়ার এবং উন্নতমানের অন্যান্য সহায়তার ব্যাপক ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যা রেলযাত্রার ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।
চলতি সপ্তাহের সুনির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র এই সপ্তাহেই জসিডিতে ৬৮,২৬৮ জন, বৈদ্যনাথধামে ৭,১৪৩ জন, দেওঘরে ২২,৬২৭ জন, বাসুকিনাথে ১৯,৬৭৫ জন এবং সুলতানগঞ্জে ৩৫,৩০৯ জন পুণ্যার্থীকে রেলের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিষেবা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক তারকেশ্বর রুটেও এই সময়ে ৩৫,৭১১ জন যাত্রী অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করেছেন। এত বিপুল পরিমাণ যাত্রীচাপ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক বিশেষ বা স্পেশাল ট্রেনও চালিয়েছে পূর্ব রেল। যার মধ্যে শুধুমাত্র জসিডিতে ৩৩টি, বৈদ্যনাথধামে ৬টি, দেওঘরে ২১টি এবং বাসুকিনাথে ১৩টি বিশেষ ট্রেন সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে সুলতানগঞ্জের জলেও একাধিক স্পেশাল ট্রেনের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
রেলপথের যাতায়াতের পাশাপাশি তীর্থযাত্রীদের চরম আপৎকালীন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা সহায়তা এবং হুইলচেয়ারের নিখুঁত বন্দোবস্ত রাখা হয়েছিল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জসিডিতে ৩১৫টি চিকিৎসা সহায়তা এবং ৫টি হুইলচেয়ার, বৈদ্যনাথধামে ২টি হুইলচেয়ার, দেওঘরে ১২৪টি চিকিৎসা সহায়তা ও ১টি হুইলচেয়ার, বাসুকিনাথে ১৯৫টি চিকিৎসা সহায়তা ও ১টি হুইলচেয়ার, সুলতানগঞ্জে ৩৭টি চিকিৎসা সহায়তা ও ১টি হুইলচেয়ার এবং তারকেশ্বরে ৩৬টি জীবনদায়ী চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
পূর্ব রেলের উচ্চপর্যায়ের দাবি অনুযায়ী, সিনিয়র অফিসার, ডিভিশনাল অফিসার এবং বিভিন্ন অপারেশনাল বিভাগের কর্মীদের দিনরাত এক করা সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই এই বিপুল যাত্রীচাপ অত্যন্ত সুচারুভাবে সামলানো সম্ভব হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার কড়া নজরদারি, নিখুঁত পরিচালনাগত পরিকল্পনা এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি পুণ্যার্থীর পবিত্র যাত্রা সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
দীর্ঘ মেলা পরিক্রমায় রেকর্ড গড়ে ৩০ জুলাই থেকে ২৪ অগাস্ট ২০২৬ পর্যন্ত শুধুমাত্র জসিডিতে মোট ১৭,৩৪,৮৮৩ জন যাত্রীকে সুরক্ষিত পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে ৮,৫৮১টি চিকিৎসা সহায়তা এবং ১৬০টি হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১১,০৭৪টি কোচ সম্বলিত মোট ৭৬৪টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হয়। সমগ্র যাত্রাপথে পুণ্যার্থীদের নিরপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন ৬,৪৭৭ জন চৌকস RPF কর্মী। একই সঙ্গে সুলতানগঞ্জ স্টেশনে ১৬,০০,৮৯৪ জন যাত্রীকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামলানো হয়েছে। সেখানে ৯১৪টি চিকিৎসা সহায়তা এবং ২৫টি হুইলচেয়ারের পাশাপাশি ৮৮৮টি কোচ-যুক্ত ৬৪টি বিশেষ ট্রেন পরিচালিত হয় এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন ২,৯২৮ জন RPF কর্মী।
অন্যদিকে, তারকেশ্বর তীর্থক্ষেত্রেও রেকর্ড ভাঙা ভিড় দেখা গিয়েছে। ১৮ জুলাই থেকে ২৪ অগাস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তারকেশ্বরে ২৬,৩৪,৮৯০ জন পুণ্যার্থীকে পরিষেবা দিয়েছে পূর্ব রেল। এই সময়ে ১,২৬৭টি চিকিৎসা সহায়তা এবং ৭১টি হুইলচেয়ার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫৫২টি কোচ-সহ মোট ৪৬টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হয় এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন ৪,৫৪৫ জন RPF কর্মী। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি এই প্রসঙ্গে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “শ্রাবণী মেলার পবিত্র সময়ে আমাদের একমাত্র ও প্রধান অগ্রাধিকার হল প্রতিটি ভক্তের অটুট নিরাপত্তা, সর্বোচ্চ স্বাচ্ছন্দ্য এবং সার্বিক কল্যাণ। সমস্ত পুণ্যার্থীর জন্য একটি সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন ও ঝঞ্ঝাটমুক্ত যাত্রা নিশ্চিত করতে পূর্ব রেলওয়ে সুচিন্তিত পরিকল্পনা এবং নিবেদিতপ্রাণ পরিষেবা প্রদানে সবসময় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”