বাজার থেকে ক্যাপসিকাম কেনার দিন শেষ! ঘরের এক টুকরো বীজেই ছাদবাগান হবে সবুজ ও লালে ভরপুর!

বাজার থেকে চড়া দামে ক্যাপসিকাম বা বেল পেপার কিনে খাওয়ার অভ্যাস কি আপনার রয়েছে? একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, রান্নাঘরে থাকা সেই সাধারণ ক্যাপসিকাম থেকেই বাড়ির বারান্দা বা ছাদে খুব সহজেই নতুন গাছ ফলানো সম্ভব। বিশেষ করে এই বর্ষাকালে ছাদবাগান বা টবে বাগান করার কথা যাঁরা ভাবছেন, তাঁদের জন্য ক্যাপসিকাম চাষ দিয়ে শুরু করাটা অত্যন্ত দারুণ এবং লাভজনক একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে। সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষণের বিষয় হলো, এর জন্য আপনাকে বাজার থেকে কোনো ধরনের মহার্ঘ বীজ কিনতে হবে না। বরং ঘরে থাকা ক্যাপসিকামের ভেতর থেকেই খুব যত্নে বীজ সংগ্রহ করে আপনি অনায়েসেই ঝকঝকে সবুজ ও রঙিন গাছ ফলাতে পারবেন।
বাড়িতে খুব সহজেই ক্যাপসিকাম গাছ লাগানো সম্ভব এবং এর জন্য খুব বেশি পরিশ্রম বা অভিজ্ঞতারও প্রয়োজন হয় না। কেবল কয়েকটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও পদ্ধতি মাথায় রাখলে আপনি সারা বছরই ঘরোয়া উপায়ে তাজা ক্যাপসিকাম পেতে পারেন। বর্ষাকাল ক্যাপসিকাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি সময়। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ঘরে থাকা ক্যাপসিকাম থেকে ঠিক কীভাবে নিখুঁত উপায়ে গাছ লাগানো সম্ভব। সবার প্রথমে বীজ সংগ্রহের জন্য একটি ভালো, পুষ্ট ও সুস্থ ক্যাপসিকাম বেছে নিন। সেটি কেটে ভেতরের বীজগুলি অত্যন্ত সাবধানে আলাদা করে নিন। খেয়াল রাখবেন বীজগুলি যেন একদম পরিষ্কার ও সুস্থ থাকে। বীজ সংগ্রহের পর সেগুলোর অতিরিক্ত আর্দ্রতা বা জলীয় ভাব দূর করার জন্য কিছুক্ষণ ছায়ায় রেখে ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে।
এরপর টব প্রস্তুত করার পালা। ক্যাপসিকাম গাছের সুস্থ বৃদ্ধির জন্য প্রায় ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি গভীর ও চওড়া আকৃতির টব সবচেয়ে উপযুক্ত। টবের নিচে অবশ্যই জল নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ছিদ্র থাকতে হবে, যা বর্ষাকালে গাছের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। কারণ টবে জল জমে থাকলে গাছের শিকড় পচে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। মাটি তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণ বাগানের মাটির সঙ্গে ভালোভাবে পচা গোবর সার বা ভার্মিকম্পোস্ট এবং সামান্য পরিমাণ বালি মিশিয়ে নেওয়া দরকার। এতে মাটি ঝুরঝুরে ও বাতাস চলাচলের উপযোগী থাকে, ফলে অতিরিক্ত জল সহজেই বেরিয়ে যেতে পারে। টবটি মাটি দিয়ে পূর্ণ করে ক্যাপসিকামের বীজগুলি অল্প গভীরে পুঁতে দিন। খুব বেশি পুরু মাটির আস্তরণ দিয়ে বীজগুলি ঢেকে দেবেন না। এরপর স্প্রে বোতল দিয়ে আলতো করে জল ছিটিয়ে দিন যাতে বীজগুলি স্থানচ্যুত না হয়। টবটি পর্যাপ্ত আলোযুক্ত স্থানে রাখুন, তবে খেয়াল রাখবেন সেটি যেন সরাসরি ভারী বৃষ্টির মুখে না পড়ে।
বর্ষাকালে অনেকেই গাছে অতিরিক্ত জল দেওয়ার বড় ভুল করে থাকেন। অথচ এই সময়ে গাছের জলের প্রয়োজন তুলনামূলক অনেক কম হয়। তাই জল দেওয়ার আগে আঙুল দিয়ে মাটির ওপরের স্তরটি ভালো করে পরীক্ষা করে নিন। মাটি যদি আগে থেকেই ভেজা বা আর্দ্র থাকে, তবে সেদিন আর জল দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। টবে জল জমে থাকলে ছত্রাকের মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে এবং গাছের শিকড় পচে যেতে পারে। বীজ থেকে ছোট চারা বের হওয়ার পর সেটিকে পর্যাপ্ত আলোযুক্ত স্থানে স্থানান্তরিত করুন। গাছ যত বড় হবে, ততই তার প্রচুর আলো এবং দিনে অন্তত কয়েক ঘণ্টা সরাসরি সূর্যের আলোর প্রয়োজন হবে। মাঝে মাঝে গাছের গোড়ার মাটি কিছুটা আলগা করে দিন এবং কোনো শুকনো বা ক্ষতিগ্রস্ত পাতা দেখা গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে ছাঁটাই করে ফেলুন। প্রাকৃতিকভাবে গাছের বৃদ্ধি তরান্বিত করতে জৈব সার ব্যবহার করতে পারেন। সাধারণত বীজ রোপণের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে গাছে ছোট ছোট ক্যাপসিকাম ধরতে শুরু করে। শুরুতে এগুলোর রং সবুজ থাকে এবং আপনি চাইলে এই সবুজ অবস্থাতেই এগুলো সংগ্রহ করে রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন। তবে গাছে আরও কিছুদিন রেখে দিলে রোদের তাপে এগুলোর রং ধীরে ধীরে হলুদ বা লালে পরিবর্তিত হয়ে যাবে। এভাবে খুব সহজেই আপনি একটি গাছ থেকে বিভিন্ন রঙের ক্যাপসিকাম পেতে পারেন।