জেলাশাসক কোপের মুখে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়! সিএবির গুরুত্বপূর্ণ সভা বয়কট করল ১৮টির মধ্যে ১৬টি জেলা!

জেলাশাসকদের পরপর চিঠির জেরে গত জুলাই মাসেই সিএবি-র যুগ্ম-সচিব পদপ্রার্থীদের নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে গিয়েছিল। কারণ, নির্ধারিত সেই সময়সীমার মধ্যে কোনো পক্ষ থেকেই কোনো ধরনের মনোনয়ন জমা পড়েনি। ঠিক তার একমাস পর, গত ২০ আগস্ট আয়োজিত সিএবি-র একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে অধিকাংশ জেলার এমন অপ্রত্যাশিত ও ঠান্ডা মেজাজ ফের একবার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের (CAB) অন্দরে চরম অস্বস্তির জন্ম দিল।

আসন্ন ঘরোয়া ক্রিকেট মরশুমের সামগ্রিক রূপরেখা নিখুঁতভাবে তৈরি করা এবং বিভিন্ন টুর্নামেন্ট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য গত ২০ আগস্ট দুপুর দুটোয় মোট ১৮টি জেলাকে নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন সিএবি প্রেসিডেন্ট তথা ভারতীয় ক্রিকেটের মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নিজ নিজ জেলার যোগ্য প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য চলতি মাসের ৫ তারিখেই সরাসরি জেলাশাসকদের উদ্দেশ্যে একটি সরকারি চিঠি পাঠিয়েছিলেন খোদ সিএবি প্রেসিডেন্ট (যে চিঠির বিশ্বস্ত প্রতিলিপি ইতিমধ্যেই সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে)। ওই চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, আগামী দিনে সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভায় বা এজিএমে যাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করবেন, তাঁদেরই যেন এই জেলার বৈঠকে পাঠানো হয়।

কিন্তু অত্যন্ত বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, প্রবল উৎসাহে ডাকা সেই মেগা বৈঠক শেষ পর্যন্ত আদতে আর অনুষ্ঠিতই হতে পারেনি। কারণ, ১৮টি জেলার মধ্যে যথাসময়ে ইডেন গার্ডেন্সে হাজির হয়েছিলেন মাত্র দুটি জেলার প্রতিনিধি—হাওড়া এবং নদিয়া। বাকি ষোলোটি জেলার কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় কোরাম বা প্রয়োজনীয় উপস্থিতি পূরণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে পূর্বনির্ধারিত সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বাতিল করে দিতে হয়।

২০ আগস্টের ওই বাতিল হওয়া বৈঠকের দিন ইডেন গার্ডেন্সে উপস্থিত ছিলেন এমন এক শীর্ষস্থানীয় কর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এবিপি লাইভ বাংলাকে জানান, “সিএবি-র নিয়মানুযায়ী সাধারণত এ ধরনের জরুরি বৈঠকের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা ক্রীড়া সংস্থাকেই চিঠি পাঠানো হয়ে থাকে। কিন্তু এবার সরাসরি জেলাশাসকদের দপ্তরে চিঠি পাঠানোর যে নজির তৈরি হয়েছে, তা অতীতে সচরাচর দেখা যায়নি। এটা সত্যি যে জেলার জেলাশাসক পদাধিকারবলে প্রতিটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার এক্স-অফিসিও বা কার্যকরী প্রধান হন। সম্ভবত সিএবি-র আসন্ন স্পেশ্যাল জেনারেল মিটিং বা বিশেষ সাধারণ সভার আগে জেলাশাসকরা কোনো অভ্যন্তরীণ চিঠি চালাচালি করেছিলেন বলেই এবার বাধ্য হয়ে সিএবি সরাসরি তাঁদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল।”

ঠিক কী কারণে সেদিন কাঙ্ক্ষিত বৈঠকটি করা গেল না? সেই প্রসঙ্গে ওই কর্তা আরও বলেন, “দুপুর দুটো থেকে বৈঠকের নির্ধারিত সময় ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর দেখা যায় যে কেবল হাওড়া ও নদিয়ার দুজন প্রতিনিধিই ইডেনে এসে পৌঁছান। বিকেল প্রায় চারটে পর্যন্ত আমরা বাকিদের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। কিন্তু আর কেউ না আসায় শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরে সিএবি প্রেসিডেন্ট নিজের চেম্বারে ডেকে দূরদূরান্ত থেকে আসা ওই দুই জেলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কিছুটা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা সারেন, তবে সেটিকে কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিক বৈঠক বলা চলে না।”

যদিও সিএবি-র একটি অংশ সরাসরি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার এই লজ্জাজনক তথ্যটি মানতে নারাজ। এই বিষয়ে সিএবি-র ভাইস প্রেসিডেন্ট নীতীশরঞ্জন (অনু) দত্তকে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, “বৈঠকে একেবারে যে কেউ আসেননি তা নয়, মোটামুটি আটজন মতো উপস্থিত ছিলেন। তাছাড়া কয়েকজন প্রতিনিধি ভার্চুয়ালি বা অনলাইনেও এই বৈঠকে যুক্ত হয়েছিলেন।” যদিও সিএবির অন্দরের অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে যে সেদিন মূলত জেলা সাব কমিটির একটি আলাদা বৈঠক থাকার কথা ছিল। সহ-সভাপতি সম্ভবত সেই বৈঠকের কথাই বোঝাতে চেয়েছেন। পাশাপাশি এ-ও শোনা যাচ্ছে যে এর আগে গত ১৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠক ডাকার কথা থাকলেও কেউ উপস্থিত না থাকায় তা বাতিল করতে হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সূচি সামান্য পরিবর্তন করে অন্য একটি দিনে সেই বৈঠক সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।

আজ বুধবার বিকেলে ইডেন গার্ডেন্সে অ্যাপেক্স কাউন্সিলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আজকের এই বৈঠকে একাধিক অতি সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে, বহু প্রতীক্ষিত বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএমের চূড়ান্ত দিনক্ষণ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। মনে করা হচ্ছে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সিএবির এজিএম অনুষ্ঠিত হতে পারে। বর্তমান সচিব বাবলু কোলের বয়স সত্তর বছর পূর্ণ হয়ে যাওয়ার কারণে সচিব পদ এবং যুগ্ম-সচিব পদ—এই দুটি শূন্য পদে নতুন নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া আগামী ৭ সেপ্টেম্বর সিএবি-র বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের ঐতিহ্যবাহী জীবনকৃর্তি সম্মান পাওয়ার কথা দেশের প্রাক্তন প্রখ্যাত স্পিনার উৎপল চট্টোপাধ্যায়ের। পাশাপাশি বিগত মরশুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মান উঠতে চলেছে ব্যাটার সুদীপ কুমার ঘরামির হাতে। আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপেক্স কাউন্সিলের বৈঠকেই এই সমস্ত নাম ও তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে সিলমোহর পেতে চলেছে।