পোশাক বিতর্কে শেষ রক্ষা হল না! কৃতি স্যাননের সমালোচনার মুখে পড়ে রাখি বিজ্ঞাপন পাকাপাকিভাবে তুলল জিভা!

রাখিবন্ধনের মতো একটি পবিত্র ও পারিবারিক উৎসবকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পোশাক বিতর্ক বর্তমানে গোটা দেশের বিনোদন এবং রাজনৈতিক মহলে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি একটি নামী গয়নার সংস্থা ‘জিভা’-র (Ziva) রাখি উৎসবের বিজ্ঞাপনে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের পরিবর্তে ফ্যাশনেবল ব্রালেট-স্টাইল ব্লাউজ, কেপ এবং স্কার্ট পরিধান করার কারণে তীব্র কটাক্ষ ও আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী কৃতি স্যানন। ওই পোশাকে অভিনেত্রীর উপস্থিতি এবং পোষ্য কুকুরকে রাখি পরানোর দৃশ্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আপত্তির ঝড় ওঠে। একাংশের দাবি ছিল, ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় উৎসবের সঙ্গে এই ধরনের আধুনিক উপস্থাপনা সম্পূর্ণ বেমানান। এই বিতর্কে কৃতিকে সরাসরি আক্রমণ করে বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত প্রশ্ন তোলেন, “বিকিনি পরে কেউ কেন রাখি বাঁধতে যাবেন?” কঙ্গনার এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পরেই বিতর্ক এক নতুন মোড় নেয় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
সমালোচকদের সেই ট্রোলের কড়া জবাব দিয়ে কৃতি স্যানন প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, পোশাকের কাটিং দিয়ে কবে নারীর সংস্কার ও সংস্কৃতির বিচার করা বন্ধ হবে? তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন যে, সংস্কৃতির মাপকাঠি কখনওই মানুষের পোশাক হতে পারে না, তা থাকে মানুষের মনে এবং ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসায়। পাশাপাশি পোষ্যদের রাখি পরানোর প্রসঙ্গে তাঁর যুক্তি ছিল, পোষ্যেরাও পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই তাদের সুরক্ষা ও দীর্ঘায়ুর প্রার্থনা করাও সম্পর্কেরই বহিঃপ্রকাশ। কৃতির এই সাহসিকতাপূর্ণ অবস্থানের পাশে এসে দাঁড়িয়ে তাঁর বোন নূপুর স্যাননও প্রশ্ন তোলেন যে, একজন নারী কী পরবেন তা নিয়ে সমাজের এত মাথাব্যথা কেন? শুধু বিনোদন জগতই নয়, এই বিতর্ক গড়ায় রাজনৈতিক ময়দানেও। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী কৃতির পাশে দাঁড়িয়ে সাফ জানান যে, একজন নারীর পোশাক বা ব্যক্তিগত পছন্দ সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব স্বাধীনতার বিষয় এবং নারীদের পোশাক নিয়ে অহেতুক ট্রোলিং অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। এর সঙ্গেই তিনি পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিলোপ ঘটানোর জোরালো বার্তা দেন।
এদিকে, সমাজমাধ্যমে লাগাতার সমালোচনা, রাজনৈতিক চাপ এবং তীব্র আইনি-সামাজিক বিতর্কের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় গয়নার ওই সংস্থাটি। সংস্থার অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয় যে, ভারতীয় সংস্কৃতি ও লোকোৎসবের প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। পরিবার এবং পোষ্যদের একসঙ্গে উদযাপনের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই ওই বিজ্ঞাপনটি বানানো হয়েছিল। তবে দেশের সাধারণ মানুষের গণআবেগ এবং ঐতিহ্যকে সর্বাগ্রে সম্মান জানিয়ে তারা সমস্ত ডিজিটাল ও প্রচার মাধ্যম থেকে ওই বিতর্কিত বিজ্ঞাপনটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কৃতির প্রতিবাদ, কঙ্গনার আক্রমণ, রাহুলের রাজনৈতিক সমর্থন এবং শেষমেশ সংস্থার নতিস্বীকার—সব মিলিয়ে রাখির এই বিজ্ঞাপন বিতর্ক বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান হট টপিক হয়ে উঠেছে।