ইরানি তেল বাণিজ্যে মদত! ভারতের ৪ সংস্থা ও ৩ নাগরিকের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া নিষেধাজ্ঞা!

ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যের ওপর আরও একবার সাঁড়াশি আক্রমণ শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তেহরানের আয়ের প্রধান উৎসগুলোকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়ার মূল লক্ষ্য নিয়ে এবার তারা সরাসরি নিশানা করেছে ভারতে সক্রিয় একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে। প্রায় ১১ কোটি ৯০ লক্ষ মার্কিন ডলার মূল্যের নিষিদ্ধ ও গোপন বাণিজ্যিক লেনদেনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগ থাকার গুরুতর অভিযোগে ভারতভিত্তিক চারটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সংস্থা এবং তিনজন ভারতীয় নাগরিকের ওপর অত্যন্ত কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ কোণঠাসা করতে ওয়াশিংটন যে অত্যন্ত আপসহীন ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে, এই পদক্ষেপ তারই এক সুষ্পষ্ট ও জোরালো প্রতিফলন।
মার্কিন প্রশাসনের ঘোষিত সর্বাত্মক ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ উদ্যোগের আওতায় এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে বিশ্বজুড়ে ইরানের গোপন আর্থিক নেটওয়ার্ক ও প্রধান অর্থনৈতিক সংযোগস্থলগুলোর ওপর একটি সর্বাত্মক ‘অর্থনৈতিক আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেতি গোয়েন্দা তদন্তে উঠে এসেছে ভারতভিত্তিক ‘সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড’ নামক একটি বিশেষ সংস্থার নাম। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের প্রকাশিত বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত এই সংস্থাটি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ২০২৫ সালের জুন মাসের মধ্যবর্তী সময়ে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লক্ষ মার্কিন ডলার মূল্যের ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য অবৈধভাবে আমদানি করেছে।
কেবল তাই নয়, এই বিশাল অঙ্কের আমদানির বেশ কিছু চালান ও আর্থিক লেনদেন এমন কিছু বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছিল, যেগুলোর ওপর ওয়াশিংটন আগেই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান নাম হলো সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ‘বনজুর কমোডিটি এফজেডই’। মার্কিন অর্থ দপ্তরের স্পষ্ট অভিমত, বিভিন্ন ছদ্মবেশী আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী, শেল কোম্পানি এবং জটিল ছায়া নেটওয়ার্কের সাহায্য নিয়ে ইরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বিশ্ববাজারে তাদের তেল বিক্রি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এই অবৈধ নেটওয়ার্কগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করতেই ভারতীয় সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর সরাসরি এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এই কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ফলে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত সংস্থা ও ব্যক্তিদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সমস্ত সম্পত্তি বা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তাৎক্ষণিকভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে বড় ধরনের আইনি বাধা তৈরি হলো। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বর্তমান বৈশ্বিক বাজারে ইরান-সম্পর্কিত বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত কর্পোরেট সংস্থার জন্য একটি অত্যন্ত জোরালো ও চূড়ান্ত সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।