পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতির আর্জির মাঝেই ফের হামলার নির্দেশ! অপারেশন সিঁদুরের নেপথ্যের সবচেয়ে বড় তথ্য ফাঁস!

‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন পাকিস্তানের সারগোধার কাছে কিরানা পাহাড়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সংক্রান্ত যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বড় তথ্য সামনে আনলেন ভারতের প্রাক্তন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান (অবসরপ্রাপ্ত)। তিনি পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওই এলাকায় ধোঁয়া ওঠার যে দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছিল, তা কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাত ছিল না। বরং, রাডার খুঁজে না পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া একটি ‘লয়টারিং মিউনিশন’ বা আত্মঘাতী ড্রোনের অনিচ্ছাকৃত আছড়ে পড়ার ফলেই ওই ঘটনার সৃষ্টি হয়েছিল। যেহেতু পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে কিরানা পাহাড়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল যোগসূত্র রয়েছে, তাই সামরিক উত্তেজনার মাঝে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছিল।
বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন আয়োজিত একটি বিশেষ আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে প্রাক্তন সিডিএস জানান যে, মূল আক্রমণ হানার আগে ভারতীয় সেনা সারগোধা ও কিরানা পাহাড়ের আকাশসীমায় বেশ কিছু ‘লয়টারিং মিউনিশন’ পাঠিয়েছিল। মূলত পাকিস্তানি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডারগুলোর সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করে সেগুলি ধ্বংস করাই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য। এই ক্যাটাগরির আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রগুলি আকাশে একটানা প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত চক্কর কাটতে সক্ষম। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্য খুঁজে না পেলে, এগুলি জ্বালানি বা কার্যক্ষমতা ফুরিয়ে মাটিতে নেমে এসে আছড়ে পড়ে। সম্ভবত তেমনই একটি আত্মঘাতী ড্রোন ওই পাহাড়ের গায়ে গিয়ে পড়েছিল, যার ফলে উৎপন্ন ধোঁয়ার ছবি পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে বড় করে দেখানো হয়। তবে জেনারেল চৌহান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্পষ্ট করে দেন যে, এটি কোনো পরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল না এবং পাকিস্তানের পরমাণু পরিকাঠামো ধ্বংস করা ভারতের লক্ষ্য ছিল না।
আলোচনার সময় জেনারেল চৌহান আরও একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য ফাঁস করেন। তিনি জানান, পাকিস্তান যখন তদ্বির শুরু করে এবং আলোচনার জন্য ব্যাকুল হয়ে যোগাযোগ করতে শুরু করে, ঠিক সেই সংকটের মুহূর্তেও ভারত তাদের সামরিক ঘাঁটিতে আরও বড় আঘাত হানার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে রেখেছিল। সেই নির্দিষ্ট দিনে সকাল ১০টা নাগাদ যখন পাকিস্তান আলোচনার বার্তা পাঠায়, ঠিক তখনই ভারতীয় বায়ুসেন প্রধান সারগোধায় নতুন করে হামলার অনুমতি চেয়েছিলেন। তৎকালীন সিডিএস হিসেবে তিনি তৎক্ষণাৎ সেই প্রস্তাবে ‘গো অ্যাহেড’ বা হামলার সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে তিনি বায়ুসেনাকে আরও দুটি নতুন লক্ষ্যবস্তু বেছে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ভারতের সামরিক কৌশলের মূল বার্তাটি অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল—যুদ্ধের শেষ আঘাত এবং বিজয়ের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতেই থাকবে, পাকিস্তানের হাতে নয়।
প্রাক্তন সিডিএস তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ভারতের এই নিরঙ্কুশ ও ঐতিহাসিক সাফল্যের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি ছিল স্থলবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনার মধ্যে নিখুঁত ও অটুট সমন্বয়। তিন বাহিনীর কাছেই যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র একইরকম পরিষ্কার থাকায় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে নির্ভুল সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। এর পাশাপাশি দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা প্রদান সশস্ত্র বাহিনীকে কোনো ধরনের কূটনৈতিক বা সামরিক দ্বিধা ছাড়াই নিজেদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা প্রমাণ করার সুযোগ করে দিয়েছিল।