যাত্রী নিরাপত্তায় চরম সাফল্য পূর্ব রেলের! লাইন ফাটল আবিষ্কার করে নজির গড়লেন RPSF কর্মীরা!

যাত্রীদের সার্বিক সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ফের একবার পুনর্ব্যক্ত করল পূর্ব রেল। কলকাতার ঐতিহাসিক ফেয়ারলি প্লেসে অবস্থিত পূর্ব রেলের সদর দফতরে প্রিন্সিপ্যাল হেড অফ ডিপার্টমেন্ট (PHOD), বিভিন্ন বিভাগের ডিআরএম (DRM) এবং শাখা আধিকারিকদের উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাপ্তাহিক পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতী গীতিকা পাণ্ডে। বৈঠকে তিনি সমস্ত মুলতুবি থাকা অপারেশনাল তথা পরিচালনাগত এবং পরিকাঠামোগত প্রকল্পের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের অত্যন্ত কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিনের এই বিশেষ পর্যালোচনা বৈঠকেই অসাধারণ সতর্কতা, কর্তব্যপরায়ণতা এবং অনন্য দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতিস্বরূপ RPSF-এর ১২ নম্বর ব্যাটালিয়নের বি কোম্পানির কর্মী সিটি মহিপাল সিং এবং কনস্টেবল হনুমান ধাঙ্কাকে বিশেষভাবে প্রশংসাপত্র প্রদান করে সম্মানিত করেন জেনারেল ম্যানেজার। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ অগাস্ট জসিডি রেলওয়ে স্টেশনে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিজ দায়িত্বে কর্তব্যরত ছিলেন ওই দুই RPSF কর্মী। ঠিক সেই সময়ই একটি যাত্রীবাহী ট্রেন স্টেশন ছেড়ে চলে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই তাঁরা একটি বিকট ও অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান। এক মুহূর্তও কালক্ষেপ না করে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখেন এবং বুঝতে পারেন যে রেললাইনের একটি অংশে মারাত্মক ফাটল ধরেছে।
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে দুই কর্মী অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। খবর পাওয়া মাত্রই প্রযুক্তিগত রেলওয়ে টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় এবং জরুরি ভিত্তিতে ফিশপ্লেটের সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি সুরক্ষিত ও মেরামত করে। একইসঙ্গে সেই মুহূর্তে প্ল্যাটফর্মে যাতায়াতকারী অন্যান্য ট্রেনগুলির গতিপথ সম্পূর্ণ নিরাপদে নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন করা সম্ভব হয়। এর ফলে একটি ভয়াবহ বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার আশঙ্কা সম্পূর্ণ এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং সামগ্রিক ট্রেন চলাচলেও কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি। দুই কর্মীর এই অসাধারণ সতর্কতা ও তাৎক্ষণিক তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করে জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে বলেন, যাত্রী নিরাপত্তার প্রতি তাঁদের এই অবিচল নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং এর ফলেই একটি সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে।
পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, আগামী দিনেও যাত্রীদের নিরুপদ্রব নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রেলকর্মীদের এই ধরনের সজাগ দৃষ্টি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।