চিনির আকাশছোঁয়া দামে হাঁসফাঁস মধ্যবিত্ত! কালোবাজারি রুখতে হঠাৎ কলকাতার বাজারে হানল ইবি!

চিনির লাগামছাড়া দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ গভীর হচ্ছে। প্রতিদিন যে হারে চিনি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে, তাতে মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে দাম বৃদ্ধির আসল ‘গলদ’ কোথায় রয়েছে, তা প্রশাসন ধরে ফেলেছে এবং কালোবাজারি রুখতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। চিনির বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অবৈধ মজুতদারি ঠেকাতে অবশেষে বড়সড় অভিযানে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (EB)।
মঙ্গলবার খাস কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাজারে আচমকা হানা দেন এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা। মানিকতলা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে চাল, ধান ও চিনি-সহ একাধিক অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের বর্তমান দাম এবং সরবরাহ পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর বার্তার পরই বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। মূলত চিনির দাম হঠাৎ কেন বাড়ছে, সরবরাহের শৃঙ্খলে কোথায় ঘাটতি রয়েছে কিংবা কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কি না, তা যাচাই করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
সোমবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে জানান যে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই চিনির দাম সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। প্রশাসনের দাবি, দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে থাকা লিকিজ বা ফাঁকফোকর চিহ্নিত করা হয়েছে। কালোবাজারি ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় রোধে রাজ্যজুড়ে টাস্ক ফোর্সকে ফের অত্যন্ত সক্রিয় করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, রাজ্যের ৭২টি সাব-ডিভিশন এবং ৩৫টি পুলিশ কমিশনারেট স্তরে এই বিশেষ টাস্ক ফোর্স কাজ করছে। বাজারে সঠিক জোগান বজায় রাখতে এবং মজুতদারি দমনে কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
ইবি-র প্রাথমিক অভিযানে এখনও পর্যন্ত অস্বাভাবিক কিছু না মিললেও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে কোনোভাবেই কৃত্রিম উপায়ে পণ্য আটকে দাম বাড়াতে না পারেন, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে প্রশাসন। বাজার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদের সচেতন করতে আগামী ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।