ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন! চাঞ্চল্যকর অভিযোগে উত্তাল বারুইপুর

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়া এলাকায় এক বিজেপি কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম বাপি প্রামাণিক। পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পিত খুনের অভিযোগ তোলা হলেও, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, একটি পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও মারামারির ফলেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
পরিবারের সদস্যদের জোরালো দাবি, বাপি দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অতীতে বিজেপি করার কারণে তাঁকে প্রায় এক দশক ধরে ঘরছাড়া থাকতে হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ, সেই পুরোনো রাজনৈতিক বিরোধ ও প্রতিহিংসার জেরেই তাঁকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার দিন রাতে একটি ফোন পেয়ে তিনি বাড়ি থেকে বাইরে বের হন এবং তারপরেই তাঁর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, এলাকার বিজেপি নেতা সুজন মণ্ডল এবং শাসক দলের আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী এই নৃশংস হামলার নেপথ্যে সরাসরি যুক্ত রয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষতের চিহ্ন নিয়ে গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পুলিশ সূত্রে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, ঘটনার মূল সূত্রপাত হয়েছিল একটি স্থানীয় পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে মৌখিক বচসা এবং পরবর্তীতে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। সেই সংঘর্ষের ফলেই বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হন, যার মধ্যে বাপিও ছিলেন।
এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং নতুন করে যাতে আর কোনো সংঘর্ষ না ছড়ায়, তার জন্য উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে পরিবারের রাজনৈতিক খুনের অভিযোগ এবং পুলিশের পুজো কমিটি সংক্রান্ত তত্ত্ব—এই দুইয়ের মধ্যে কোনটা সত্যি, তা জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশি জেরার ফলাফলের দিকেই এখন সকলে তাকিয়ে রয়েছেন।