চিনির আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ! উৎসবের আগেই দেশে আসছে আমদানিকৃত চিনির প্রথম চালান

উৎসবের মরসুম শুরুর আগেই সাধারণ মানুষের হেঁসেলে স্বস্তি ফেরাতে বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র সরকার। অভ্যন্তরীণ বাজারে চিনির জোগান বাড়াতে এবং লাগামছাড়া দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিদেশ থেকে শুল্কমুক্ত আমদানির সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজ (এনএফসিএসএফ)-এর প্রধান প্রকাশ নাইকনাভারে জানিয়েছেন, সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ১৫ অক্টোবরের আগেই ব্রাজিলের প্রথম চিনির চালান ভারতে এসে পৌঁছাতে পারে।
সম্প্রতি দেশের বাজারে চিনির দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। পর্যাপ্ত সরবরাহের ঘাটতির কারণে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে খুচরা ও পাইকারি বাজারে চিনির দাম প্রায় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে দেশজুড়ে প্রতি কেজি ৫৬ থেকে ৬০ টাকার ঘরে গিয়ে ঠেকেছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে উৎসবের আগে চিনির আকাল দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে গত ২০ আগস্ট সরকার কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে ১০ লক্ষ টন পর্যন্ত অপরিশোধিত চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির ঐতিহাসিক অনুমতি প্রদান করে।
আমদানির ক্ষেত্রে বর্তমানে ব্রাজিলই একমাত্র নির্ভরযোগ্য ও প্রধান উৎস হিসেবে সামনে এসেছে, কারণ ভারতের ঐতিহ্যবাহী সরবরাহকারী দেশ থাইল্যান্ড নিজে বর্তমানে চিনির ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছে। তবে ব্রাজিল থেকে দীর্ঘ সমুদ্রপথ পেরিয়ে ভারতে পণ্য পৌঁছাতে সাধারণ ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লেগে যায়। এর সঙ্গে ভারতীয় বন্দরগুলিতে অতিরিক্ত প্রক্রিয়া ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সময় যুক্ত হয়। ফলে নির্দিষ্ট কত পরিমাণ চিনি এসে পৌঁছাবে, তা এই মুহূর্তে পুরোপুরি নিশ্চিত করে বলা কঠিন। ডিজএফটি-র অনুমোদন, বরাদ্দ, লেটার অফ ক্রেডিট ইস্যু এবং ব্রাজিলের ব্যস্ত বন্দরগুলির ট্র্যাফিকের ওপর চালানের সঠিক সময়সূচী নির্ভর করছে।
ইতিমধ্যেই মজুতদারদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর ও সাঁড়াশি অভিযানের ফলে বাজারে চিনির দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে আমদানিকারকরা এখন সরকারের এই শুল্কমুক্ত সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়ে দ্রুত চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজে নেমে পড়েছেন, যাতে যত দ্রুত সম্ভব ভারতীয় বন্দরে পণ্য পৌঁছে দেওয়া যায়। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রথম দফার চালানগুলি হাতে পেলে আসন্ন উৎসবের মরসুমে বাজারে চিনির চাহিদা সহজেই মেটানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞরা।