মোদীর মেগা মাস্টারস্ট্রোক! সরাসরি তরুণদের মুখোমুখি প্রধানমন্ত্রী, ২৭ অগস্ট দেশজুড়ে আসছে ‘খেলো ইন্ডিয়া সংবাদ’

জাতীয় ক্রীড়া দিবসের প্রাক্কালে দেশের যুবসমাজ এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সরাসরি কথোপকথনে অংশ নিতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ২৯ অগস্ট দেশজুড়ে পালিত হবে জাতীয় ক্রীড়া দিবস। এই বিশেষ দিনটির দু’দিন আগে অর্থাৎ আগামী ২৭ অগস্ট দেশজুড়ে দেড় হাজারের বেশি জায়গায় আয়োজিত হতে চলেছে এক মেগা কর্মসূচি, ‘খেলো ইন্ডিয়া সংবাদ, খেল কি বাত, পিএম কে সাথ’। কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রকের এই অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্ম ও নীতি নির্ধারকদের মধ্যে সরাসরি মত বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
হকির জাদুকর মেজর ধ্যানচাঁদের জন্মবার্ষিকীর স্মরণে প্রতি বছর ২৯ অগস্ট দিনটি জাতীয় ক্রীড়া দিবস হিসেবে পালন করা হয়। সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই এবারের এই দেশব্যাপী কর্মসূচি সাজানো হয়েছে।
সরাসরি যুক্ত হবেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তারকারা
কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি জায়গায় যুব সমাজ, ক্রীড়াবিদ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে এক ছাদের তলায় আনা হচ্ছে। আইআইটি, আইআইএম, এনআইটি, এইমস-এর মতো দেশের প্রিমিয়ার মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সহ একাধিক প্রথমসারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই দেশব্যাপী প্রচারে অংশ নিচ্ছে।
শুরুতেই থাকবে ‘মাই ভারত’ স্বেচ্ছাসেবকদের স্বাগত ভাষণ। এরপর গত ১২ বছরে ভারতের ক্রীড়া ক্ষেত্রে পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের একটি বিশেষ ভিডিও প্রেজেন্টেশন দেখানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল ভাষণের পরেই দেশের দেড় হাজার কেন্দ্রে শুরু হবে বিভিন্ন শারীরিক ও ক্রীড়া কর্মসূচি। দিল্লির আইআইটি ক্যাম্পাসে মূল আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য।
থাকছেন পিটি ঊষা থেকে শুরু করে মেরি কম ও সাইনা নেহওয়ালরা
এই ঐতিহাসিক আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ দেশের তাবড় ক্রীড়াতারকাদের উপস্থিতি। ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পিটি ঊষা ছাড়াও মনিকা বাত্রা, দীপা কর্মকার, সাইনা নেহওয়াল, গগন নারাং, পিআর শ্রীজেশ, মেরি কম, বাইচুং ভুটিয়া, পুল্লেলা গোপীচন্দ, অঞ্জু ববি জর্জ, কর্ণম মাল্লেশ্বরী, মীরাবাই চানু এবং বেশ কিছু খ্যাতনামা ক্রিকেটার এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কথা বলার সময় এই তারকারা নিজেদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, লড়াইয়ের দিনগুলি, ব্যর্থতা ও সাফল্যের চড়াই-উতরাই ভাগ করে নেবেন। ক্রীড়ামন্ত্রীর কথায়, এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্যই হল যুবসমাজকে এই বার্তা দেওয়া যে, একজন চ্যাম্পিয়নের যাত্রা কোনও বিশাল স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয় না, বরং শুরু হয় সাধারণ এক মাঠ আর ছোট্ট একটা প্রচেষ্টা থেকেই। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক ও রাজ্যগুলির ক্রীড়ামন্ত্রীরাও এই কর্মসূচিতে সামিল হয়ে যুবসমাজকে উৎসাহ জোগাবেন।
ভবিষ্যৎ ভারতের ক্রীড়া নীতিতে বিশেষ গুরুত্ব
এই দীর্ঘস্থায়ী কর্মসূচির মাধ্যমে মূলত প্রধান কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এবং যুবসমাজের কাছ থেকে মতামত চাওয়া হচ্ছে। তৃণমূল স্তরে উন্নত সুযোগ-সুবিধা, সঠিক প্রশিক্ষণ এবং পরিকাঠামো যাতে একেবারে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রতিভা চিহ্নিত করে ২০৩৬ অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুতি ও ক্রীড়াবিদদের সঠিক বিকাশ ঘটানোই এই মেগা ইভেন্টের মূল লক্ষ্য।