সীমানা ছাড়াল খেলার মাঠের সৌহার্দ্য! ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে শাহবাজ শরিফকে খোলা চিঠি সুনীল গাভাস্করসহ ২১ অধিনায়কের

রাজনীতি সব সময় মাঠের বাইরে সীমাবদ্ধ থাকলেও, খেলার মাঠে তৈরি হওয়া মানবতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ যে কোনো ভৌগোলিক সীমানা মানে না, তার এক উজ্জ্বল ও বিরল নজির স্থাপন করলেন বিশ্ব ক্রিকেটের একুশ জন কিংবদন্তী প্রাক্তন অধিনায়ক। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিশ্বকাপজয়ী ঐতিহাসিক অধিনায়ক ইমরান খানের কারাবন্দি জীবন এবং তাঁর ক্রমশ অবনতিশীল শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন তাঁরা।
এই চিঠিতে সই করেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্র সুনীল গাভাস্কর, কপিল দেব এবং দিলীপ বেঙ্গসরকারের মতো কিংবদন্তী তারকারা। এছাড়াও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের হেভিওয়েট নাম যেমন অ্যালান বর্ডার, স্টিভ ওয়াহ, মাইকেল আথারটন, অ্যালস্টেয়ার কুক, ক্লাইভ লয়েড এবং অর্জুনা রণতুঙ্গার মতো তারকারাও এই উদ্যোগে একজোট হয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে প্রায় ছয় মাস আগে চৌদ্দ জন অধিনায়ক ইমরান খানের পক্ষে আবেদন জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন, আর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন আরও সাত জন প্রাক্তন অধিনায়ক।
বর্তমানে তেহাত্তর বছর বয়সি ইমরান খান গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে রাওয়ালপিন্ডির কড়া নিরাপত্তার মুড়ে থাকা আদিয়ালা জেলে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং তাঁর বোন ডঃ উজমা খানের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে একটি স্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হবে। কিন্তু ক্রিকেট অধিনায়কদের মূল অভিযোগ, আদালতের সেই স্পষ্ট নির্দেশ যথাযথভাবে ও নিরপেক্ষভাবে পালন করা হয়নি। ইমরানকে শুধুমাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তড়িঘড়ি সরকারি চিকিৎসকদের দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে পুনরায় জেলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এমনকি তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার মতো অত্যন্ত গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তাঁর কোনো সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা করা হয়নি বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
পাক প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এই চিঠিতে প্রাক্তন অধিনায়করা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, তাঁদের এই পদক্ষেপের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই কিংবা তাঁরা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ আইনি ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতেও চান না। কেবল বিশ্ব ক্রিকেটের আঙিনায় গড়ে ওঠা সুদৃঢ় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিকতার খাতিরেই তাঁদের এই মানবিক আবেদন।
পাক সরকারের কাছে তাঁরা মূলত তিনটি জোরালো প্রধান দাবি রেখেছেন। প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যথাযথভাবে মেনে ইমরান খানের নিজস্ব চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে একটি স্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সুপ্রিম কোর্ট পরিবারকে সাক্ষাতের জন্য যে নির্দিষ্ট সপ্তাহের অনুমতি দিয়েছে, তাতে যেন কোনো প্রশাসনিক বা আইনি বাধা তৈরি করা না হয়। এবং তৃতীয়ত, চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ অনুযায়ী বিন্দুমাত্র কালবিলম্ব না করে তাঁর সঠিক ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক গণ্ডি ও দেশীয় সীমান্ত ভুলে বিশ্ব ক্রিকেটের এই তারকারা আজ ইমরানের পাশে দাঁড়িয়ে এক অনন্য মানবিকতার বার্তা দিলেন।