যাদবপুর কাণ্ডে বিতর্কিত মন্তব্য! ‘এসব তো লেগেই থাকে, বড়দের মাঝে না টানাই ভালো’, সাফাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

দেশের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে অন্যতম নামী প্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে চলা বিভিন্ন অনভিপ্রেত ঘটনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। আর ঠিক এই আবহেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সংঘটিত বিভিন্ন অশান্তি ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এক বিস্ফোরক ও বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরিষ্কার ভাষায় জানান যে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরনের গোলমাল বা উত্তেজনার ঘটনা নতুন কিছু নয়। অতীতেও এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ইস্যুতে বিশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক কোন্দল দেখা গিয়েছে। তাঁর মতে, দেশের অন্যান্য সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও যেমন বিভিন্ন সময়ে ছাত্র-অসন্তোষ, মতপার্থক্য এবং ছোটোখাটো রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা ঝুট-ঝামেলা হতে দেখা যায়, যাদবপুরের পরিস্থিতিও তার থেকে আলাদা কিছু নয়। এই ধরনের অভ্যন্তরীণ সমস্যা বা অনভিপ্রেত ঘটনাগুলিকে অহেতুক বড় করে না দেখে এবং এর মধ্যে প্রবীণ বা বাইরের বড়দের অহেতুক না জড়ানোই শ্রেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিষয়গুলি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ও ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের মতো করে সামলে নিতে পারে বলেই তাঁর ইঙ্গিত।

তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই ধরনের মন্তব্যকে একেবারেই সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না ওয়াকিবহাল মহল ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ। সমালোচকদের মতে, একটি নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পর পর যেভাবে অনভিপ্রেত ঘটনা, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি এবং বিভিন্ন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তাতে কেন্দ্রীয় স্তরের দায়িত্বশীল মন্ত্রীর এ ধরনের উদাসীন বা লঘু মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তাঁদের দাবি, শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা এবং পড়ুয়াদের শৃঙ্খলা রক্ষা করা কেবল স্থানীয় কতৃপক্ষের নয়, সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি বড় দায়িত্ব। এই ধরনের ঘটনাকে ‘স্বাভাবিক’ বা ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সাধারণ ঝুট-ঝামেলা’ বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

অন্যদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পঠনপাঠনের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষক মহল সোচ্চার হয়েছে। ক্যাম্পাসের ভেতরে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি বারবার তোলা হলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর এই মন্তব্য যাদবপুরের বর্তমান উত্তাল পরিস্থিতিতে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে এবং আগামী দিনে এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য।