চিনির বাজারে আগুন! ১২ দিনে একলাফে ২১ শতাংশ দাম বৃদ্ধি, মাথায় হাত মধ্যবিত্তের

দেশে চিনির বাজার নিয়ে বর্তমানে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। যে দেশ একসময় সারা বিশ্বে অবাধে মিষ্টির রসদ জুগিয়েছিল এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক হিসেবে পরিচিত ছিল, আজ সেখানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। গত কয়েক দিনে চিনির বাজারে যে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, তাতে সাধারণ মানুষের হেঁশেলের বাজেট কার্যত ওলটপালট হয়ে গেছে। মাত্র বারো দিনের ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চিনির দাম প্রায় ১৯ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাম্প্রতিককালের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশের বাজারে চিনির গড় খুচরো দাম ছিল প্রতি কেজি ৫২ টাকার কাছাকাছি। কিন্তু স্থানীয় বাজার ও গলির খুচরো দোকানে এই হার ইতিমধ্যেই ৬০ থেকে ৬৫ টাকা প্রতি কেজিতে গিয়ে ঠেকেছে। মহারাষ্ট্রের বিখ্যাত চিনির বাজার কোলাপুরে পাইকারি দর রেকর্ড গড়ে প্রতি কুইন্সল ৫,৩৫৫ টাকায় পৌঁছেছে। দেশের এমন এক পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, যেখানে ভারত ২০২১-২২ অর্থবছরে ১২ মিলিয়নের বেশি টন চিনি বিদেশে রপ্তানি করেছিল, সেখানে আজ হঠাৎ এই তীব্র আকাল দেখা দিল কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের প্রধান কারণগুলির অন্যতম হলো আখের ব্যবহার পরিবর্তন করে ইথানল উৎপাদনে জোর দেওয়া। সরকার জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে ই20 (E20) লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য distilleries বা শোধনাগারের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। এর ফলে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত আখের একটি বড় অংশ চিনির বদলে ইথানল তৈরিতে চলে যাচ্ছে। অল ইন্ডিয়া ডিস্টিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, এই ফিডস্টকের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশই আখ থেকে আসছে। কৃষিতত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, জ্বালানি নীতি কখনোই খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মূল্যে হতে পারে না।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিনির রপ্তানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, স্টক হোল্ডিং লিমিট বা মজুত রাখার ক্ষেত্রেও কড়া নিয়ম চালু করা হয়েছে, যাতে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে। এর পাশাপাশি, খোলা বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে এবং আসন্ন উৎসবের মরশুমের কথা মাথায় রেখে সরকার ১০ লক্ষ মেট্রিক টন কাঁচা চিনি আমদানির ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও এই নিয়ে তরজা তুঙ্গে উঠেছে, যেখানে বিরোধী শিবির সরকারের ভুল নীতির দিকে আঙুল তুলছে। এখন দেখার বিষয়, এই বহুমুখী পদক্ষেপে চিনির লাগামছাড়া দাম নিয়ন্ত্রণে আসে কি না।