যাদবপুর কাণ্ডে ১৮০ ডিগ্রি ডিগবাজি! হস্টেলে ঢুকে তাণ্ডবের হুশিয়ারির পর হঠাৎ কোন সুর ধরলেন বিজেপি বিধায়ক?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই নিজের আগের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ সরে এলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে হস্টেলে ঢুকে তাণ্ডব চালানো এবং ১ ঘণ্টার ডেডলাইন দেওয়ার মতো কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার মাত্র একদিনের ব্যবধানেই তাঁর সুর বদল ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল।

গত রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এবিভিপি এবং এসএফআই সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হন। আহতদের দেখতে কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে চাগানো মেজাজে শর্বরী মুখোপাধ্যায় নাম করে একাধিক ছাত্র নেতার বিরুদ্ধে চরম হুশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযুক্তরা থানায় আত্মসমর্পণ না করলে তাঁদের লুকিয়ে থাকা জায়গা থেকে টেনে বের করা হবে এবং সারারাত ধরে তাণ্ডব চলবে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের একাংশকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন তিনি।

তবে এই মন্তব্যের জেরে রাজ্যজুড়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে আজ সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে কথা বলতে শোনা যায় ওই বিধায়ককে। এদিন নিজের পূর্বের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন যে তিনি কোনো রকম উস্কানিমূলক কথা বলেননি। তাঁর নতুন দাবি অনুযায়ী, তিনি শুধুমাত্র আহত এবিভিপি কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং অপরাধীদের আইনের হাতে সঁপে দেওয়ার কথাই বলেছিলেন। সেই সঙ্গে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকারের পক্ষে সওয়াল করে তিনি জানান, আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত।

হঠাৎ করে এক জনপ্রতিনিধির এই অবস্থান বদল এবং নমনীয় মনোভাব নেটিজেনদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের নিরাপত্তা এবং বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই তরজা আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।