ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ নিয়ে তুলকালাম! জেপিএসসি (JPSC) ও এফএসও (FSO) পরীক্ষায় হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে শোরগোল

ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক যেন এক বিস্ফোরক মোড় নিল। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট ১১তম-১৩তম জেপিএসসি (JPSC) এবং ফুড সেফটি অফিসার (FSO) পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করার রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ (Stay) জারি করেছে। এই রায় একদিকে যেমন হাজার হাজার সফল প্রার্থীর মুখে হাসি ফুটিয়েছে, অন্যদিকে সরকার ও আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সংঘাতকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

গত ২০ আগস্ট বিচারপতি দীপক রোশনের বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সরকার এই পরীক্ষাগুলো নিয়ে চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না। আদালত রাজ্য সরকারের কাছে এই বিষয়ে হলফনামা বা বিস্তারিত জবাব তলব করেছে এবং আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। আদালতের এই রায়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন সেইসব প্রার্থী, যারা দীর্ঘ সংগ্রামের পর মেধার ভিত্তিতে নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন।

তবে এই রায়ের পর থেকেই ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক ও ছাত্র আন্দোলনের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্ম মঞ্চের ব্যানারে আন্দোলনরত ছাত্ররা দাবি করছেন, রাজ্য সরকার আদালতে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘দুর্বল সওয়াল’ করেছে। ছাত্রদের অভিযোগ, পরীক্ষা বাতিল করার পেছনে কোনো স্বচ্ছ কারণ বা উপযুক্ত তথ্য সরকার পেশ করতে পারেনি। তাদের মতে, ২২টি পরীক্ষা বাতিল এবং ২৩টি পরীক্ষার সিআইডি তদন্তের ঘোষণা ছিল মূলত ছাত্রদের আন্দোলন ধামাচাপা দেওয়ার এক রাজনৈতিক কৌশল। এর প্রতিবাদে ২১ আগস্ট রাজ্যজুড়ে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কুশপুত্তলিকা দাহ করার কর্মসূচি নিয়েছে ছাত্র সংগঠন।

অন্যদিকে, জেএসএসসি-সিজিএল (JSSC-CGL) পরীক্ষার বাতিল হওয়ার সিদ্ধান্তে বিপর্যস্ত প্রায় ২,০০০ সফল প্রার্থী গত তিন দিন ধরে ঝোড়ো বৃষ্টির মধ্যেও রাঁচির রাস্তায় অবস্থান করছেন। ঝাড়খণ্ড সচিবালয়ের বাইরে খোলা আকাশের নিচে, ভিজে রাস্তায় রাত কাটিয়ে তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাদের দাবি, তাদের মধ্যে ৫০০-৬০০ জন এমন প্রার্থী রয়েছেন, যারা অতীতে রেল, কেন্দ্রীয় জিএসটি বা আইটি দপ্তরের মতো কেন্দ্রীয় চাকরির সুযোগ ছেড়ে রাজ্যের সেবায় যোগ দিতে এসেছিলেন। আজ তারা নিদারুণ অনিশ্চয়তার মুখে।

আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট কথা, নিয়োগপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে যদি কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে অনিয়মে জড়িত থাকে, তবে শুধুমাত্র তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পুরো পরীক্ষা প্রক্রিয়া বাতিল করে হাজার হাজার মেধাবী ছাত্রের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা অনৈতিক। এছাড়া এদিন হাইকোর্টে সিডিপিও (CDPO) পরীক্ষার বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে ঝাড়খণ্ডের সরকারি চাকরির বাজারে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা আসন্ন নির্বাচনেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, সরকার আদালতের নির্দেশ মেনে কোন পথে এগোয় এবং হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান কোথায় হয়।