মার্কিন বিমান চলাচলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে জলের সন্ধানে নামছে চীন! আসছে নতুন চন্দ্রাভিযান

ভারতের মহাকাশ অভিযানের সাফল্যের পর এবার চাঁদের দক্ষিণ মেরুর রহস্যভেদে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে চীন। খুব শীঘ্রই দেশটি তাদের এযাবৎকালের অন্যতম জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ চন্দ্রাভিযান চ্যাং’ই-৭ (Chang’e 7) উৎক্ষেপণ করতে চলেছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো চাঁদের এমন কিছু অংশ অন্বেষণ করা, যেখানে আজ পর্যন্ত সূর্যের আলো পৌঁছায়নি।

গভীর হিমায়িত অংশে জলের সন্ধান

বিজ্ঞানীদের অনুমান, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর নিকটবর্তী স্থায়ীভাবে ছায়াচ্ছন্ন গর্তগুলিতে কোটি কোটি বছর ধরে বরফ বা হিমায়িত জলের ভান্ডার জমা হয়ে রয়েছে। এই অঞ্চলগুলি মাইনাস ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ঠান্ডায় একটি প্রাকৃতিক ডিপ ফ্রিজারের মতো কাজ করে। এই দুর্গম ও গভীর গর্তগুলোতে জল এবং উদ্বায়ী জৈব যৌগ রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করতেই চীন এই অভিযান পরিচালনা করছে।

কী কী থাকছে মহাকাশযানে?

চীনের এই মনুষ্যবিহীন অভিযানে রোবোটিক ল্যান্ডার, রোভার এবং একটি বিশেষ ‘হপিং’ বা লাফিয়ে চলার প্রোব পাঠানো হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ প্রদেশ হাইনানের ওয়েনচাং স্পেস লঞ্চ সাইট থেকে লং মার্চ ৫ রকেটের মাধ্যমে এটি উৎক্ষেপণ করা হবে বলে জানা গেছে। মহাকাশযানটিতে আধুনিক জল বিশ্লেষক, উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরা এবং রাডার যুক্ত করা হয়েছে, যা চাঁদের পৃষ্ঠের গভীর তথ্য সংগ্রহ করবে।

ভবিষ্যতের চন্দ্র ঘাঁটির প্রস্তুতি

মহাকাশ গবেষকদের মতে, চাঁদে দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি বা মানব বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে জলের সন্ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জল কেবল নভোচারীদের পানীয় এবং অক্সিজেন সরবরাহ করতেই সাহায্য করবে না, বরং ভবিষ্যতে রকেটের কাঁচা জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এর ফলে পৃথিবী থেকে অতিরিক্ত রসদ পাঠানোর খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সফলভাবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি অবতরণ করে ইতিহাস গড়েছিল ভারতের চন্দ্রযান-৩। এবার সেই একই দুর্গম এলাকায় চীনের এই নতুন অভিযান বিশ্ব রাজনীতি ও মহাকাশ গবেষণায় নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।