বন্যার জলে ভাসছে দক্ষিণবঙ্গ! পরিস্থিতি পরিদর্শনে আকাশপথে বেরিয়ে কী বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী?

টানা কয়েকদিনের অতি ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা জলে আবারও ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ জনপদ। বিগত বছরের তিক্ত স্মৃতিকে উসকে দিয়ে আরামবাগ, সবং এবং ঘাটাল সহ একাধিক জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় তলিয়ে গেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এই বন্যা পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার একেবারে আকাশপথে প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের তৎপরতা এবং ত্রাণ বন্টনের প্রস্তুতি নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, কলকাতা থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে সরাসরি সবংয়ে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছানোর পর স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নেন তিনি। এই বৈঠকে মূলত বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং আগামী দিনে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ কীভাবে চালনো হবে, তার এক পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা হয়। সবংয়ের হেলিপ্যাড থেকে আকাশপথে ঘাটালের প্লাবিত এলাকাগুলি ঘুরে দেখার পর তিনি সোজা রওনা দেন আরামবাগের উদ্দেশ্যে। সেখানেও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক সেরে ত্রাণের রূপরেখা তৈরি করা হয়।
এদিন ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ বন্যায় দুর্ভাগ্যবশত এখনও পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাজ্য সরকারের তরফে শোকপ্রকাশ করে মৃতদের পরিবারকে মোট ৯ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, অবিরাম বৃষ্টি ও জলের তোড়ে যাঁদের কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের প্রাথমিক তালিকায় মোট ৩২টি বাড়ি চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই পরিবারগুলিকে অবিলম্বে বাড়ি সারাইয়ের জন্য সরকারের তরফ থেকে ৩২ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, দুর্গতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালানো হচ্ছে।