নজর সরানোর নাম করে বাড়িতে প্রবেশ! বৃহন্নলার ছদ্মবেশে ভয়ংকর কায়দায় গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবক

মুম্বই শহরে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক ঘটনায় বৃহন্নলার ছদ্মবেশ ধারণ করে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার ঘটিত এই ন্যক্কারজনক অপরাধের জেরে গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তের চতুর কায়দা ও অপরাধের বীভৎসতা সাধারণ মানুষকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই যুবক বৃহন্নলার রূপ ধরে সরাসরি ওই মহিলার বাড়ির দরজায় এসে হাজির হয়। দরজায় কড়া নাড়া শব্দ শুনে গৃহবধূ দরজা খুলতেই ওই ব্যক্তি দাবি করে যে, মহিলার ওপর নাকি কোনো অশুভ কালো নজর লেগেছে। সেই নজর কাটানো বা দূর করার নাম করেই সে জোর করে বা নানা কৌশলে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। বাড়িতে ঢোকার পরেই তার আসল ও পশুবৃত্তির রূপটি বেরিয়ে আসে। সে সোজা মহিলার বেডরুমে প্রবেশ করে এবং তাঁকে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এমনকি মহিলা যদি এই জঘন্য অপরাধের প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেন বা বাধা দেন, তবে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে মারাত্মক ক্ষতি করা হবে বলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

ঘটনার আকস্মিকতা ও আতঙ্কে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়লেও ভুক্তভোগী মহিলা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে অপরাধী পালিয়ে যাওয়ার পরেই স্থানীয় থানায় গিয়ে সমস্ত ঘটনা জানিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নড়েচড়ে বসে মুম্বই পুলিশ। অপরাধীর খোঁজে শুরু হয় জোরদার তদন্ত। ঘটনার দিন সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। ফুটেজে পরিষ্কার দেখা যায় যে, অপরাধ সংঘটিত করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে একটি অটোরিক্সায় চেপে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।

এরপর আধুনিক প্রযুক্তিগত নজরদারি তথা টেকনিক্যাল সার্ভিল্যান্স এবং হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স বা স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের সুচারু ব্যবহার করে পুলিশ তার গতিবিধি নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করে। অপরাধীর অবস্থান নিশ্চিত করার পর থানের একটি ঘিঞ্জি বস্তি এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। শেষ পর্যন্ত অভিযোগ দায়ের হওয়ার মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে হাতেনাতে পাকড়াও করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং জেরার মুখে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ধৃত ওই যুবক আদতে ভিক্ষাবৃত্তি করত এবং পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে বা সহজলভ্য উপায়ে অপরাধের ফন্দি আঁটতে সে প্রায়শই বৃহন্নলার ছদ্মবেশ ধারণ করে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই সে অত্যন্ত সুকৌশলে নিরীহ মানুষের বাড়িতে প্রবেশ করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপ চালাত। বর্তমানে অভিযুক্তকে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় এনে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। সমাজে ছদ্মবেশী অপরাধীদের এই ধরনের ক্রমবর্ধমান দৌরাত্ম্য রুখতে পুলিশ সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।