পরীক্ষার আগেই হোয়াটসঅ্যাপে ভাইরাল প্রশ্নপত্র! ছত্তীসগঢ়ে বিএসসি এগ্রিকালচার পরীক্ষা বাতিলের কড়া সিদ্ধান্ত

পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে খাতা জমা পড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর সোশ্যাল মিডিয়া ও মেসেজিং অ্যাপে ঘুরতে থাকা একটি প্রশ্নপত্রের সঙ্গে আসল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের প্রায় সত্তর শতাংশ মিল পাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে শিক্ষামহল। এই গুরুতর অনিয়ম ও প্রশ্ন ফাঁসের আশঙ্কার জল্পনা তুঙ্গে উঠতেই ছত্তীসগঢ়ের মর্যাদাপূর্ণ ইন্দিরা গান্ধী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমেস্টার পরীক্ষা সম্পূর্ণ বাতিল করার ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যদিও প্রশ্নপত্রটি ঠিক কীভাবে এবং কোন সূত্রে বাইরে বেরিয়েছিল কিংবা এটি আদতে কোনো পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ ছিল কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেনি প্রশাসন। তবে গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানায় একটি আনুষ্ঠানিক পুলিশি অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রায়পুরের ইন্দিরা গান্ধী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং অধীনস্থ মোট চৌত্রিশটি কলেজে বিএসসি এগ্রিকালচার (BSc Agriculture)-এর দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমেস্টারের এনটমোলজি (Entomology) বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত চলা এই পরীক্ষায় রাজ্যের প্রায় পাঁচ শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হ্যাটট্রিকের মতো হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন গ্রুপে একটি প্রশ্নপত্র হু হু করে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। পরীক্ষার্থীরা ও সচেতন মহল দেখতে পান যে, ওই ভাইরাল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে সদ্য সমাপ্ত পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের প্রায় ৭০ শতাংশ হুবহু মিলে গেছে। আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষার্থী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধতেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই (NSUI) এবং পরবর্তীতে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)—উভয় রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরাই ক্যাম্পাসে এসে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরীক্ষার্থীদের স্পষ্ট দাবি ছিল যে, কঠোর পরিশ্রমের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার পর এমন বেনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত নড়েচড়ে বসে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রাথমিক সুপারিশ এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনার পরেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করার চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. কপিল দেব দীপক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের বিষয়বস্তু বা সিলড প্যাকেট পরীক্ষার আগে অভ্যন্তরীণ কোনো যোগসাজশে ফাঁস হয়েছিল কি না, তা পুলিশি তদন্তের মাধ্যমেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এন্ট ২২১—‘পস্ট ম্যানেজমেন্ট ইন ক্রপস অ্যান্ড স্টোর্ড গ্রেইনস-আই (রবি ক্রপস)’ বিষয়ের বাতিল হওয়া এই পরীক্ষাটি পুনরায় আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে গ্রহণ করা হতে পারে। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য রায়পুরের তেলিবাঁধা থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে। এখন পুলিশি তদন্তের রিপোর্টের পরই স্পষ্ট হবে যে হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে বাস্তবের এই মিল নিছক কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল, নাকি এর নেপথ্যে কোনো বড় চক্র সক্রিয় রয়েছে।