চম্পাহাটিতে ফের বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ! জনবসতি থেকে দূরে তৈরি ঘরে কি লুকিয়েছিল অন্য রহস্য?

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার চম্পাহাটি-পিয়ালি এলাকার একটি বাজি কারখানায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই আকস্মিক বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছে, জনবসতি থেকে কিছুটা দূরে একটি নির্জন জমির মধ্যে ঘর তৈরি করে বাজি তৈরির কাজ চলছিল। আর সেই কারখানাতেই আচমকা বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে, যার জেরে গুরুতর জখম হন অন্তত দু’জন শ্রমিক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে কারখানার ওই ঘরটিতে আগুন ধরে যায় এবং চারপাশে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন থাকা দুই শ্রমিকের শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই বারুইপুর পুলিশ জেলার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং দমকলের একাধিক ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। দমকল কর্মীদের দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বাপি নস্কর নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন এই ঘরটিতে বেআইনিভাবে বাজি তৈরির কাজ চালানো হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, জনবসতি থেকে দূরে ওই এলাকায় মাছের ব্যবসার আড়ালে এই বেআইনি বাজি কারখানাটি চালানো হচ্ছিল। তবে এই ঘটনায় প্রশাসনের তরফ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং কারখানার বৈধতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কী তথ্য উঠে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস। তিনি জানান যে পুরো ঘটনার পেছনের আসল কারণ এবং কারখানার আইনি বৈধতা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।