‘বামদের পুষে রেখেছিল তৃণমূল, আবার আক্রমণ হবে’! যাদবপুরের ধুন্ধুমার পরিস্থিতির মাঝেই বিস্ফোরক মন্তব্য দিলীপ ঘোষের

রাজ্যের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের একবার চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অশান্তি ছড়াল। ছাত্র সংসদ না থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন জেনারেলি বডি (জিবি) মিটিং ডাকা হলো, এই প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP) বা এবিভিপি সমর্থকরা। আর এই প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেই এসএফআই (SFI) সহ অন্যান্য বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে এবিভিপি সমর্থকদের তুমুল হাতাহাতি ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে দুই পক্ষের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। এই পুরো ঘটনায় বাম শিবিরের বিরুদ্ধে জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে এবিভিপি শিবির। আর যাদবপুরের এই সাম্প্রতিক অশান্তি ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই এবারে অত্যন্ত বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন শোরগোল ফেলে দিলেন বিজেপি নেতা তথা বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দিলীপ ঘোষ।

যাদবপুরের এই ধুন্ধুমার ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত কড়া সুরে আক্রমণ শানিয়েছেন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে। তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে এবং আগামী দিনে আরও অনেক পরিবর্তন দেখা যাবে। সমস্ত রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলিকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন যে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের দাদাগিরি কিংবা দেশবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। বিগত দিনে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই ধরনের শক্তিকে প্রশ্রয় দিয়ে পুষে রেখেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। অতীতে যাদবপুর ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন যে তাঁদের দলের কর্মীরা অতীতে সেখানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে অতীতেও তিনি সতর্ক করেছিলেন যে ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনো রকমের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না। সেই সময় এসএফআই-এর অফিস পর্যন্ত ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবারও যদি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কোনো ধরনের দেশবিরোধী স্লোগান বা কার্যকলাপ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তবে আবারও একই রকম কড়া পদক্ষেপ হিসেবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হবে বলে হুমকি দেন তিনি।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ দশক ধরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির একচ্ছত্র আধিপত্য ও প্রভাব বজায় রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়েও বারবার নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। যাদবপুরের মতো মুক্ত ও প্রগতিশীল শিক্ষাঙ্গনে বহিরাগতদের উপস্থিতি এবং নিয়মিত তাণ্ডবের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মহল। জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে নতুন করে তৈরি হওয়া এই সংঘাত এবং রাজনৈতিক নেতাদের এই ধরনের চরম হুঁশিয়ারি রাজ্যের উচ্চশিক্ষাক্ষেত্রে এবং ছাত্র রাজনীতির আঙিনায় গভীর উদ্বেগের মেঘ ঘনীভূত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পঠনপাঠনের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।