মাত্র ৬০০ টাকা জমিয়েই ১ লাখ টাকার মালিক! এসবিআই-এর এই দুর্দান্ত স্কিমে আজই শুরু করুন বিনিয়োগ

ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ছোটোখাটো সঞ্চয় থেকে বড় ফান্ড গড়ে তুলতে স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (SBI) নিয়ে এসেছে একটি দারুণ সুযোগ। সাধারণত সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির সঞ্চয়ের কথা মাথায় রেখে এই রেকারিং ডিপোজিট (RD) স্কিমটি ডিজাইন করা হয়েছে। সন্তানের উচ্চশিক্ষা, বিবাহ কিংবা জরুরি প্রয়োজনের আর্থিক বুনিয়াদ মজবুত করতে এই স্কিমটি অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে। এসবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় নামমাত্র বিনিয়োগ করে বড় অংকের রিটার্ন পাওয়ার এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবেন না অনেকেই।

বিনিয়োগের হিসাব ও কিস্তির অঙ্ক:
ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, এই স্কিমে গ্রাহকরা নিজেদের সুবিধা মতো ৩ থেকে ১০ বছরের মেয়াদ বেছে নিতে পারেন। স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার তথ্য বলছে, টানা ১০ বছর ধরে প্রতি মাসে মাত্র ৬০০ টাকা করে জমালে মেয়াদ শেষে ১ লক্ষ টাকার বেশি ফান্ড হাতে পাওয়া সম্ভব। এই পুরো প্রক্রিয়ায় আপনার মোট বিনিয়োগ হবে ৭২,০০০ টাকা এবং বাকি অংশটি আসবে সুদের লাভ থেকে। নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সময় এবং মাসিক কিস্তির পরিমাণে রয়েছে বিশেষ সামঞ্জস্য। উদাহরণস্বরূপ, ১ লক্ষ টাকার টার্গেট পূরণ করতে চাইলে ৩ বছরের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ২,৫১০ টাকা, ৫ বছরের জন্য প্রায় ১,৪২০ টাকা এবং ১০ বছরের জন্য প্রায় ৬১০ টাকা জমা করতে হবে। অর্থাৎ, বিনিয়োগের সময়কাল যত বাড়বে, মাসিক কিস্তির চাপ ততটাই কমে যাবে।

কারা খুলতে পারবেন অ্যাকাউন্ট এবং সুদের হার:
এই বিশেষ রেকারিং ডিপোজিট স্কিমে একক বা যৌথ—উভয় প্রকার অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা রয়েছে। এমনকি ১০ বছর বা তার বেশি বয়সের নাবালক বা নাবালিকারাও নিজেদের নামে এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারে। ১০ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে বাবা-মা কিংবা আইনি অভিভাবকরা এই অ্যাকাউন্ট অপারেট করতে পারবেন। সুদের হারের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য রয়েছে; সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ৩ থেকে ৪ বছরের মেয়াদের জমায় ৬.৫৫ শতাংশ এবং ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য ৬.৩০ শতাংশ হারে সুদ ধার্য করা হয়। প্রবীণ নাগরিক, এসবিআই কর্মী এবং পেনশনভোগীদের জন্য সুদের হারে বিশেষ ছাড় বা তারতম্য থাকতে পারে। তাই অ্যাকাউন্ট খোলার আগে সংশ্লিষ্ট শাখায় সুদের বর্তমান হার যাচাই করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

শর্তাবলী ও জরিমানার নিয়ম:
স্কিমের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে অর্থ তোলার প্রয়োজন হলে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত মেনে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা যায়, তবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে জরিমানা কাটতে পারে। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আমানতের ক্ষেত্রে ০.৫০ শতাংশ এবং তার বেশি অংকের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা ধার্য হতে পারে। বিশেষ দ্রষ্টব্য হলো, অ্যাকাউন্ট খোলার ৭ দিনের মধ্যে টাকা তুলে নিলে কোনো সুদ প্রদান করা হয় না। তাই সমস্ত নিয়মকানুন ও শর্তাবলী ভালোভাবে যাচাই করে তবেই এই লাভজনক স্কিমে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।