বাইকে তিনজন উঠলেই কুপোকাত! এক চালানেই ফাঁকা হবে পকেট, সঙ্গে তিন মাসের জন্য লাইসেন্স বাতিল!

আমাদের দেশে ট্রাফিক নিয়মকানুন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাস্তাঘাটে বেপরোয়াভাবে বাইক চালানোর প্রবণতা আজও পুরোপুরি দূর হয়নি। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং পুলিশের চোখকে ফাঁকি দেওয়ার মানসিকতার কারণে প্রায় প্রতিটি বড় মোড়ে ট্রাফিক পুলিশকে কড়া নজরদারি চালাতে হয়। কিন্তু এরপরেও প্রতিদিন এমন বহু বাইক রাইডারকে দেখা যায়, যারা ন্যূনতম নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে বাইকে অতিরিক্ত সওয়ারি নিয়ে রাস্তায় ঝড় তোলেন। আপনিও যদি বাইকে একসঙ্গে তিনজনে যাতায়াত করার কথা ভেবে থাকেন, তবে এই খবরটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোটর ভেহিকেল আইন অনুযায়ী, ট্রিপল রাইডিংয়ের ক্ষেত্রে প্রশাসন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
কেন্দ্রীয় মোটর ভেহিকেল আইনের ১২৮ ধারা অনুযায়ী, যেকোনো দু’চাকার গাড়িতে সর্বোচ্চ দু’জন ব্যক্তি যাতায়াত করতে পারেন—যাঁদের মধ্যে একজন চালক এবং অন্যজন তাঁর পিছনের আসনে বসা সহযাত্রী। এই আইন অমান্য করে যদি কোনো বাইকে তিন জন সওয়ার হন, তবে ১৯৪সি ধারা অনুযায়ী কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রথমবার কিংবা সাধারণ এই নিয়মভঙ্গের অপরাধে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে সরাসরি ১,০০০ টাকার চালান কাটা হতে পারে। তবে এখানেই শেষ নয়; আইন অনুযায়ী শুধু আর্থিক জরিমানা দিয়েই রেহাই পাওয়া যায় না, বরং সংশ্লিষ্ট চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স একটানা তিন মাসের জন্য সম্পূর্ণভাবে সাসপেন্ড বা বাতিল করার এক্তিয়ারও পুলিশের হাতে রয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যদি বাইকে থাকা তিনজন যাত্রীর কারোর মাথাতেই হেলমেট না থাকে। মোটর ভেহিকেল আইনের ১৯৪ডি ধারা অনুযায়ী, চালক বা পিছনের সহযাত্রী আইএসআই (ISI) মার্কযুক্ত মানসম্মত হেলমেট পরিধান না করলে অতিরিক্ত আরও ১,০০০ টাকা জরিমানা দিতে হতে পারে। অর্থাৎ, হেলমেট ছাড়া ট্রিপল রাইডিংয়ের মতো মারাত্মক ভুল করলে মোট চালানের পরিমাণ সহজেই দুই হাজার টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর পাশাপাশি লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকি তো থাকছেই। অনেকেই আবার মনে করেন যে বাইকের সামনে বা মাঝখানে একটি ছোট শিশুকে বসিয়ে নিলে ট্রিপল রাইডিংয়ের আওতায় পড়বে না। কিন্তু আইনি বিধান অনুযায়ী, চার বছরের বেশি বয়সি যেকোনো শিশুকে একজন পূর্ণাঙ্গ সওয়ারি হিসেবেই গণ্য করা হয়। তাই চার বছরের বেশি বয়সি কোনো শিশুকে নিয়ে বাইকে মোট তিন জন থাকলে সেটিও ট্রিপল রাইডিং হিসেবেই ধরা হবে এবং কড়া চালান কাটা হবে।
বর্তমান সময়ে ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল নজরদারি অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। বড় শহর ও হাইওয়েগুলির গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলিতে অত্যাধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং এএনপিআর (ANPR) ক্যামেরা বসানো রয়েছে। এই সমস্ত স্মার্ট ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাইকে তিন জন যাত্রীকে শনাক্ত করে ছবি তুলে নেয়। এর পর কোনো রকম বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি চালানের ডিজিটাল মেসেজ চলে যায় বাইক মালিকের রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে। তাই সামান্য কিছু টাকার তেল বা সময় বাঁচানোর জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন ভুল করা একেবারেই উচিত নয়। দু’চাকার বাহনগুলি মূলত দুজন মানুষের ভারসাম্য ও ওজন বহন করার কথা মাথায় রেখেই ডিজাইন করা হয়। একটু সচেতনতা এবং সামান্য দায়িত্ববোধই পারে আপনাকে এবং আপনার প্রিয়জনদের বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও আইনি ঝামেলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে।