কাজের চাপে ফুরিয়ে যাচ্ছে শক্তি? কঠোর পরিশ্রম আর ‘বার্নআউট’-এর ভয়ংকর পার্থক্য জানেন কি?

সফলতার ইঁদুরদৌড়ে ছুটতে ছুটতে কখন যে আমরা নিজেদের অজান্তেই চরম মানসিক ক্লান্তির গহ্বরে তলিয়ে যাই, তা অনেকেই টের পাই না। “আর একটুখানি কাজ বাকি”—এই মানসিকতা মানুষকে ধীরে ধীরে এমন এক চরম ক্লান্তির দিকে ঠেলে দেয়, যেখানে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেয়ে ক্লান্তিই মুখ্য হয়ে ওঠে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ থেকে জন্ম নেওয়া এই অবস্থাকেই বলা হয় ‘বার্নআউট’। অথচ সাধারণ কঠোর পরিশ্রম আর বার্নআউটের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে।
কঠোর পরিশ্রমের পর শরীর ক্লান্ত হলেও কাজের অগ্রগতির একটি মানসিক তৃপ্তি থাকে, যা সামান্য বিশ্রামে কেটে যায়। কিন্তু বার্নআউটের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি পিছু ছাড়ে না। কাজের কথা ভাবলেই মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে এবং ছোটখাটো বিষয়েও মেজাজ খিটখিটে হতে শুরু করে। অনেক সময় দেখা যায়, আগের চেয়ে বেশি সময় ধরে কাজ করলেও উৎপাদনশীলতা বা ফলাফল আশানুরূপ হয় না। নিত্যদিনের কাজে ঘন ঘন ভুল হওয়া, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে যাওয়া এবং প্রিয় কাজ বা শখের প্রতি অনীহা তৈরি হওয়াও এই মানসিক অবসাদের বড় লক্ষণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে চাকরি ছেড়ে দেওয়া বা লক্ষ্য পরিবর্তন করাই একমাত্র সমাধান নয়। এর পরিবর্তে কাজের ধরণে কিছু সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন আনা জরুরি। যেমন—সমস্ত কাজকে সমান গুরুত্ব না দিয়ে দিনে অন্তত তিনটি প্রধান কাজকে অগ্রাধিকার দিন, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টানুন এবং একটানা কাজ না করে ছোট ছোট বিরতি নিন। প্রয়োজনে দায়িত্ব ভাগ করে নিন এবং ঘুম ও খাওয়া-দাওয়ায় কোনো অবহেলা করবেন না। জীবনযাত্রায় এসব পরিবর্তন আনার পরেও যদি সমস্যা না কাটে, তবে অবিলম্বে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। মনে রাখবেন, কাজের ধরণ বদলানো মানে হার মানা নয়, বরং নিজেকে সুস্থ রেখে দীর্ঘমেয়াদে সফল হওয়া।