কথা বলতে পারে না তো কী হয়েছে! ইশারাতেই ৩ মিলিয়নের মন জয় করল এই নিষ্পাপ শিশু, জানুন কে সে?

দৃঢ়সংকল্প এবং মনের জোর থাকলে কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধকতাই যে মানুষের সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, তার এক জীবন্ত এবং হৃদয়বিদারক উদাহরণ সম্প্রতি ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে। কথা বলতে না পারা এক নিষ্পাপ শিশু আজ সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় নিজের প্রতিভার জোরে এক সম্পূর্ণ নতুন জগৎ তৈরি করে নিয়েছে। মুখে একটিও শব্দ উচ্চারণ না করে কেবল মুখের নিখুঁত অভিব্যক্তি এবং হাতের ইশারা বা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেই সে বিশ্ববাসীর মন জয় করে নিচ্ছে। ‘ধনঞ্জয় যাদব’ নামের একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল থেকে ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা এই শিশুটির বিভিন্ন ভিডিও এখন নেটপাড়ায় চরম ভাইরাল। এই ভিডিওগুলি সাধারণ মানুষকে শুধু আবেগাপ্লুতই করছে না, বরং এই বিশেষ শিশুর বুকভরা সাহসিকতা এবং জেদকে কুর্নিশ জানাতে বাধ্য করছে।
সাধারণত ভ্লগিং বা কন্টেন্ট সৃষ্টির রঙিন জগতে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, স্পষ্ট উচ্চারণ এবং অনর্গল কথা বলার দক্ষতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এই নিষ্পাপ শিশুটি প্রচলিত সেই সমস্ত ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে যে প্রতিভার প্রকাশে শব্দের কোনো প্রয়োজন হয় না। চারপাশের সবুজ প্রকৃতির মাঝে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত সহজ-সরলভাবে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সে ক্যামেরার সামনে নিজের মনের ভাব ফুটিয়ে তোলে। তার মুখের মাসুমিয়ত, সারল্য এবং চোখের গভীর আন্তরিকতা দেখে যে কারো মনে হবে যে সে যেন শব্দহীন ভাষাতেই তার মনের সমস্ত না বলা কথা প্রকাশ করে চলেছে।
ডিজিটাল দুনিয়ায় এই খুদের সাফল্যের গতি সত্যিই অবিশ্বাস্য। চলতি বছরের গত ১০ অগস্ট সে তার জীবনের প্রথম ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিল। আর তারপরেই মাত্র কুড়ি দিনের ব্যবধানে তার তৈরি ভ্লগগুলি ইন্টারনেটের দুনিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। তার বহু ভিডিও ইতোমধ্যেই লক্ষ লক্ষ ভিউ কুড়িয়ে নিয়েছে, যার মধ্যে একটি বিশেষ রিল ইতিমধ্যেই ৩০ লক্ষেরও বেশি দর্শক দেখেছেন। নেটিজেনরা একবাক্যে এই ভিডিওটিকে ইন্টারনেটের আজ পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে সুন্দর, আবেগঘন এবং অনুপ্রেরণামূলক সৃষ্টি বলে অভিহিত করেছেন।
ভিডিওগুলির কমেন্ট সেকশন জুড়ে এখন সাধারণ মানুষের ভালোবাসা, শুভেচ্ছা এবং আশীর্বাদের অন্তহীন বন্যা বইছে। কেউ কেউ এই জেদি ও হাসিমুখের অধিকারীকে ভালোবেসে ‘সিংহ শিশু’ বলে সম্বোধন করছেন, আবার অনেকেই আবেগের সুরে লিখছেন যে, সত্যিকারের অনুভূতির প্রকাশের জন্য কখনোই শব্দের মুখাপেক্ষী হতে হয় না। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই নিষ্পাপ শিশুটি আজ সমাজের লাখো লাখো হতাশাগ্রস্ত মানুষের কাছে এক নতুন বাঁচা এবং লড়াই করার অদম্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।