ভিডিও বানালেই সোজা ১ লক্ষ টাকা! সোশ্যাল মিডিয়া ক্রিয়েটরদের জন্য বাম্পার অফার ঘোষণা করল সরকার

বিহারের ডিজিটাল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের জন্য এক যুগান্তকারী ও লোভনীয় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুর্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ক্যাবিনেট বৈঠকে ‘বিহার সোশ্যাল মিডিয়া নীতি’-তে নতুন ও যুগান্তকারী সংশোধনী অনুমোদন করা হয়েছে। এই নতুন নীতির আওতায় এখন থেকে রাজ্যের রেজিস্টার্ড ও যোগ্য ক্রিয়েটররা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, জনকল্যাণমূলক কাজ এবং সাফল্যের ওপর আকর্ষণীয় ভিডিও তৈরি করে মোটা অংকের অর্থ উপার্জন করার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন। সরকারের এই সাহসী ও আধুনিক পদক্ষেপে রাজ্যের তরুণ প্রজন্ম এবং ডিজিটাল মিডিয়া কর্মীদের জন্য আয়ের এক বিশাল দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে।

নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, কনটেন্ট ক্রিয়েটররা একটিমাত্র ভিডিও থেকে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদ আয় করতে পারবেন। পুরো অর্থ প্রদানের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ভিডিওর ভিউ (Views) এবং জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কোনো ক্রিয়েটর যদি সরকারি প্রকল্পের প্রচারমূলক ভিডিও আপলোড করেন এবং তা ৩০ দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট ভিউ অর্জন করে, তবে প্রতি ১ লক্ষ ভিউয়ের জন্য ১০,০০০ টাকা করে সরাসরি প্রদান করা হবে। তবে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট ভিডিওর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পাওয়ার সীমা বা ক্যাপিং নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোনো ভিডিও যদি ১০ লক্ষ বা তার বেশি ভিউ পায়, তবুও এই স্কিমের আওতায় সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্তই পুরস্কারমূল্য হিসেবে দেওয়া হবে।

এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়মাবলী ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য ও জনসংযোগ দফতর খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত এবং সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। এই কাঠামোর অধীনে কাজ করার জন্য ক্রিয়েটরদের নির্দিষ্ট এম্প্যানেলমেন্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে সময়ে সময়ে ক্রিয়েটরদের পেজ, সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ও ইউটিউব চ্যানেলের ফলোয়ার সংখ্যা বা এনগেজমেন্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে। অর্থাৎ শুধুমাত্র সরকারের তালিকাভুক্ত এবং যোগ্য ক্রিয়েটররাই এই দুর্দান্ত অফারের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

সরকারের এই উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সঠিক তথ্য ঘরের কোণায় পৌঁছে দেওয়া। প্রথাগত বিজ্ঞাপনের গণ্ডি পেরিয়ে ডিজিটাল মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার শক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সরাসরি সরকারি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করাই এর মূল লক্ষ্য। তবে মাথায় রাখতে হবে যে যেকোনো ভাইরাল ভিডিও তৈরি করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই টাকা পাওয়া যাবে না। এর জন্য সরকারের নির্ধারিত বেশ কিছু কড়া শর্ত পূরণ করতে হবে। কনটেন্টের মান বজায় রাখা, নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার, ভিউয়ের সঠিক ডিজিটাল যাচাইকরণ এবং অফিসিয়াল রেজিস্ট্রেশনের সমস্ত নিয়ম এখানে কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে। কোন ধরনের কনটেন্ট এই ক্যাটাগরিতে বৈধ বলে বিবেচিত হবে এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে, সে সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই একেবারে পরিষ্কার হয়ে যাবে। আপাতত এই নীতিকে বিহারের ক্রুয়েটিভ ইকোনমির জন্য একটি ঐতিহাসিক টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে।