একদিন যার গলায় মেতে উঠত আবাসন, আজ গানেই ভিড়ল অমিল রুটি-রুজি! ভাইরাল হওয়া গায়ক শোভনের করুণ পরিণতি

গানের সুর মানুষকে বাঁচায়, আবার মাঝেমধ্যে সেই সুরই মানুষের জীবিকা কেড়ে নেয়—এমনই এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন বেহালার তরুণ শোভন চক্রবর্তী। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত ভবন থেকে রবীন্দ্রসংগীতে স্নাতক এবং পরবর্তীতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা শোভন একসময়ের সুদিন হারিয়ে জীবিকার তাগিদে একটি বহুতল আবাসনে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই সাধারণ জীবনযাত্রায় বড়সড় বিপর্যয় ডেকে আনল তাঁরই মনের গভীরে থাকা গান। ডিউটির সময় গান গাওয়ার অপরাধে এবং স্থানীয় কিছু বাসিন্দার আপত্তিতে অবশেষে তাঁর সেই সিকিউরিটি গার্ডের চাকরিটিও কেড়ে নেওয়া হলো।

ঘটনার সূত্রপাত শোভনের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়াকে কেন্দ্র করে। শান্তিনিকেতনের এই প্রাক্তনী যখন ডিউটির ফাঁকে সুরের সাধনা করছিলেন, সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা নজর কাড়ে অনেকের। কিন্তু আবাসনের সুপারভাইজার ও কিছু ফ্ল্যাট মালিকের কাছে এটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। শোভনের দাবি, গায়ে ঘামের গন্ধ ও রাস্তায় দাঁড়িয়ে গান গাওয়ার মতো আজব অজুহাত দেখিয়ে গত ১০ জুলাই তাঁকে শেষ কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এই আকস্মিক পদচ্যুতির পর সংগীতশিল্পী লোপামুদ্রা মিত্র তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গান গাওয়ার জন্য কারো চাকরি চলে যাওয়া ভাবা যায় না! রানু মণ্ডল বা বাদাম কাকু যেভাবে রাতারাতি ভাইরাল হয়েছিলেন, প্রচারের আলোয় এনে কারো স্বাভাবিক জীবন এভাবে নষ্ট করা অপরাধ।”

কোভিডের লকডাউন পর্বে ছাত্রছাত্রী হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়া শোভন টিউশনি করেই কোনোমতে সংসার চালাচ্ছিলেন। তবে অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষে এবার একটু আলোর রেখা দেখতে পাচ্ছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমে তাঁর সংগ্রামের কাহিনী ছড়িয়ে পড়ার পর বেশ কিছু নতুন গানের টিউশনি জুটেছে। শুধু তাই নয়, ‘বেঙ্গল ওয়েব সলিউশন’-এর কর্ণধার প্রশান্ত সরকারের উদ্যোগে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী রূপঙ্কর বাগচির সঙ্গে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর এক মঞ্চে গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। হংকংয়ের একটি বহুজাতিক সংস্থায় কাজের সুযোগ এলেও পেশাদার গান ও পড়াশোনার বাইরে অন্য কিছু না জানায় তিনি সেই পথে হাঁটেননি। সুরের জন্য চাকরি হারানোর বেদনা থাকলেও রূপঙ্করের সান্নিধ্য এবং নতুন এই সুযোগকে জীবনের বড় প্রাপ্তি বলেই মনে করছেন শোভন চক্রবর্তী।