নিরাপত্তার দাবিতে ফের উত্তাল যাদবপুর! দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে আজ ধুন্ধুমার কাণ্ডের আশঙ্কা, বাড়ছে উত্তেজনা

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জিবি (GB) মিটিংকে ঘিরে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং এবিভিপি (ABVP)-র সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ চরমে ওঠে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, অরবিন্দ ভবনে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং রাতভর চলা এই সহিংসতায় একাধিক পড়ুয়া গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। হাইকোর্টের আইনজীবী প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানালে আদালত নতুন মামলা দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর এবং তার আশপাশের এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে রয়েছে। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকে এদিন ৮ বি বাস স্ট্যান্ডে একটি বিশাল জমায়েতের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষকেও যোগদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, দুপুরে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে গত রাতের সহিংস ঘটনা, ক্যাম্পাসে নির্বিচারে বহিরাগতদের প্রবেশ এবং সাধারণ পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। অন্যদিকে, ঠিক একই সময়ে যাদবপুর থানার সামনে পাল্টা জমায়েতের ডাক দিয়েছে ডানপন্থী ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। দুই ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের এই মুখোমুখি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ও থানার আশেপাশে ফের ব্যাপক আইন-শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত রাতের ঘটনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, হামলার পেছনে এবিভিপির একটি বড় অংশ ছিল যারা আদতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের অর্থাৎ বহিরাগত। এসএফআই (SFI) ও ডিএসএফ (DSF)-এর অভিযোগ, হাতে লাঠি ও ইট নিয়ে ওই বহিরাগতরা সরাসরি পড়ুয়াদের আক্রমণ করে এবং অরবিন্দ ভবনের গাড়ি বারান্দার সামনে আগুন জ্বালিয়ে আতঙ্ক ছড়ায়। ভবনের ভিতরে যখন বহু ছাত্রী আটকে পড়েন, তখন বাইরে থেকে কোলাপসিবল গেটের ফাঁক দিয়ে তাঁদের লক্ষ্য করে জল ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এমনকি বামপন্থী সংগঠনগুলির পতাকাও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন এসএফআই নেতা পাভেল। তিনি জানান, বহু কষ্টে ভোরের দিকে তাঁরা প্রাণ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের তরফ থেকেও কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, এই সমস্ত অভিযোগ একসুরে খারিজ করে দিয়েছে ডানপন্থী ছাত্র সংগঠন। এবিভিপির সদস্য সোমসূর্য বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা দাবি করে জানান যে, অতীতে বামপন্থী সংগঠনগুলিও বিভিন্ন কর্মসূচির সময় বহিরাগতদের ক্যাম্পাসের ভেতর অবাধে প্রবেশ করিয়েছে। এটি মূলত একটি স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ ছিল বলে দাবি করে তিনি জানান, সেদিন রাতে কারও হাতে কোনো নির্দিষ্ট পতাকা ছিল না। বরং উল্টোদিকে বামেদের পক্ষ থেকেই নিজেদের কার্যালয় বা পতাকা ভাঙচুর করে বিরোধীদের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছে তারা। এমতাবস্থায়, বুধবার রাতের সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই। দুই রাজনৈতিক পক্ষের এই চরম অসন্তোষ এবং পৃথক বিক্ষোভের জেরে গোটা ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।