নাবালিকা মেয়েকে দিনের পর দিন ধর্ষণ! ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়ে সন্তান প্রসব করিয়ে বিক্রির ভয়ঙ্কর চক্র ফাঁস রায়পুরে!

ছত্তিশগড়ের রায়পুর থেকে এক অত্যন্ত লজ্জাজনক ও পৈশাচিক ঘটনা সামনে এসেছে, যা গোটা সমাজকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিজের নাবালিকা মেয়েকে লাগাতার যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠল এক কুখ্যাত পিতার বিরুদ্ধে। এই নির্মম অত্যাচারের জেরে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে অভিযুক্ত বাবা আরও এক চাঞ্চল্যকর অপরাধের পরিকল্পনা করে। যাতে বিষয়টি কোনোভাবেই জানাজানি না হয় এবং পুলিশের নজর এড়ানো যায়, সেজন্য সে একটি ভুয়ো পরিচয়পত্র বা আধার কার্ড তৈরি করে, যেখানে মেয়েটির বয়স বাড়িয়ে দেখানো হয়। এই ভুয়ো নথির সাহায্যেই একটি গোপন স্থানে মেয়েটির প্রসবের সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করা হয়।

নির্যাতিতা কিশোরী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও একটি সুস্থ সন্তানের জন্ম দেয়। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, জন্ম দেওয়ার পরপরই পাষণ্ড বাবা সেই সদ্যোজাত শিশুটিকে অন্য একটি জেলার এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে চড়া দামে বিক্রি করে দেয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অবশেষে শিশু পাচারের এই গোপন চক্রের সন্ধান পেয়ে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। রায়পুর পশ্চিম জোনের ডিসিপি রবিনসন গুড়িয়া জানিয়েছেন যে, এই নৃশংস ঘটনায় মোট আটজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার পুলিশ প্রথম দফায় ছয়জনকে এবং পরবর্তী তল্লাশিতে আরও দুজনকে পাকড়াও করে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ধৃতদের জেরা করে শিশু পাচার চক্রের একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক মহিলা ওই নাবালিকার প্রসবের জন্য সম্পূর্ণ জাল পরিচয়পত্র তৈরি করেছিল। ছত্তিশগড়ের কাঙ্কের জেলার যে দম্পতির কাছে শিশুটিকে বিক্রি করা হয়েছিল, পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযান চালিয়ে নবজাতকটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। রাজেন্দ্র নগর থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৬৪ ধারা এবং কঠোর পকসো (POCSO) আইনে সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। বর্তমানে উদ্ধার করা শিশুটিকে যথাযথ দেখাশোনার জন্য রায়পুরের ‘মাতৃ ছায়া’ নামক একটি সরকারি ও সমাজকল্যাণ সংস্থার নিরাপদ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ধৃতদের লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty