শান্তিপুরে চরম অরাজকতা! চেয়ারম্যানের ঘরের সামনে উপচে পড়ছে পচা আবর্জনা, পদত্যাগ করলেন পুরপ্রধান ও উপপুরপ্রধান

নদিয়ার শান্তিপুর পৌরসভায় তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন প্রশাসনিক অচলাবস্থা। বুধবার সকাল থেকে শান্তিপুর পৌরসভার মূল গেট বন্ধ করে অভিনব ও চরম বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অস্থায়ী সাফাইকর্মীরা। দীর্ঘকাল ধরে তাঁদের বকেয়া বেতন আটকে থাকা এবং কোনোভাবেই বেতন বৃদ্ধি না হওয়ার প্রতিবাদে তাঁরা এই লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এদিনের বিক্ষোভে পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে পৌরসভার চেয়ারম্যানের ঘরের সামনেও আবর্জনার স্তূপ জমে যায় এবং তীব্র দুর্গন্ধের জেরে পুরকর্মীদের ভেতরে প্রবেশ করা পর্যন্ত অসম্ভব হয়ে পড়ে। শান্তিপুর পৌরসভা কার্যালয় নাকি আস্ত কোনো ভাগাড়—তা দেখে বোঝার বিন্দুমাত্র উপায় ছিল না। প্রশাসনিক এই চরম অব্যবস্থাপনা এবং ল্যাজেগোবরে অবস্থার মধ্যেই অবশেষে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিলেন তৃণমূল পরিচালিত শান্তিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন এই অস্থায়ী সাফাইকর্মীরা। বারবার দরবার করেও সুরাহা না মেলায় তাঁরা কাজের বদলে সরাসরি প্রতিবাদের পথ বেছে নেন। পৌরভবনের চত্বর থেকে শুরু করে চেয়ারম্যানের কক্ষের চত্বর—সর্বত্র ময়লার স্তূপ জমিয়ে রেখে তীব্র স্লোগান দিতে থাকেন কর্মীরা। শহরের জঞ্জাল পরিষ্কার করার যাঁদের কাঁধে দায়িত্ব, সেই সাফাইকর্মীদেরই এমন বেহাল দশা এবং তাদের ঘেরাও আন্দোলনের জেরে গোটা শান্তিপুর জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের অন্দরে তৈরি হওয়া এই তীব্র ক্ষোভ এবং জনরোষের চাপ সামলাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পুরবোর্ড পরিচালনার দায়িত্বে থাকা শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। এই ঘটনার ফলে একদিকে যেমন পুর পরিষেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে, তেমনই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়ে গেছে তীব্র তরজা। আন্দোলনরত কর্মীদের দাবি না মানা পর্যন্ত এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।