চার মাসে ২২ জনের ফাঁসি! উত্তরপ্রদেশের সেই ‘বিতর্কিত’ বিচারকের বেঞ্চ থেকে কেড়ে নেওয়া হল ১০০টি খুনের মামলা!

মাত্র চার মাসের ব্যবধানে ২২ জন অভিযুক্তকে ফাঁসির সাজা শোনানোর নজির গড়ে দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরের ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের বিচারক রবি কুমার দিবাকর। তবে তাঁর এই ধারাবাহিক ও অতি দ্রুত মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার জেরে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের অন্দরে গভীর আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং আইনি মহলের তীব্র প্রতিবাদের মুখে অবশেষে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। বিচারক দিবাকরের এজলাস থেকে মৃত্যু বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সংক্রান্ত প্রায় একশটি স্পর্শকাতর খুনের মামলা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলি জেলা ও দায়রা বিচারক বীরেন্দ্র কুমার সিংয়ের আদালতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রমোদ ত্যাগী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিচারক যেভাবে একের পর এক চাঞ্চল্যকর মামলায় সর্বোচ্চ সাজা বা ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট দিচ্ছিলেন, তাতে গোটা বিচারব্যবস্থা ও বিচারপ্রার্থীদের মনে ভীতি সঞ্চার হয়েছিল। ৪৬ বছর বয়সী এই বিচারকের কড়া মেজাজের ইতিহাস অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২০২২ সালে বারাণসীর বিখ্যাত জ্ঞানবাপী কমপ্লেক্সে ভিডিয়োগ্রাফি সমীক্ষার নির্দেশ দিয়েও তিনি দেশজুড়ে চর্চায় এসেছিলেন। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মুজফ্ফরনগরের ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে যোগদানের পর থেকেই তিনি বহু পুরনো ও জমে থাকা বকেয়া মামলায় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে একের পর এক কঠোর রায় ঘোষণা করতে শুরু করেন।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে তাঁর দেওয়া রায়গুলি আইনি মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। গত আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ১২ বছরের পুরনো এক খুনের মামলায় চারজনকে এবং ১৯৯৯ সালে এক কাঠ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে গলা কেটে খুনের দায়ে অন্য একজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন তিনি। একইভাবে জুলাই মাসে তিনটি পৃথক মামলায় মোট সাতজনকে ফাঁসির সাজা শোনানো হয়। এর আগে মে ও জুন মাসে ১৫ বছর আগের এক দ্বৈত হত্যাকাণ্ড এবং রাজেন্দ্র সাইনি হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের একই সাজা দেওয়া হয়েছিল। এপ্রিলে আইনজীবী মুহাম্মদ সমীর অপহরণ-খুন মামলা এবং অপর একটি ঘটনায় এক মহিলা ও তাঁর তিন ছেলেকে সরাসরি মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেন তিনি। এভাবে পরপর ১০টি মামলায় মোট ২২ জনকে ফাঁসির মঞ্চে পাঠানোর রায় আসতেই আইনি ও প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত আইনজীবীদের তীব্র আশঙ্কা ও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে বিচার বিভাগের এই মামলা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।