কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ৯! মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলের মালিক সহ গ্রেফতার ৩

কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে একটি বেসরকারি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত রাতের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শহরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন মহিলা এবং একটি শিশু রয়েছে। ভোররাতের দিকে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে আচমকাই আগুন লেগে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের চারটি ইঞ্জিন। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও বহু মূল্যবান প্রাণহানি এড়ানো যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের জেরে গোটা বিল্ডিংটি সিল করে দিয়েছে দমকল বিভাগ এবং আজও সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা জনিত ঝুঁকি এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
ইতিমধ্যে এই ঘটনায় মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিউমার্কেট থানার পুলিশ হোটেল যাপনের ম্যানেজার সঞ্জয় ও এক কর্মীকে আটক করেছিল। অন্যদিকে, গতকাল রাতেই লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ ও ডিডি (গোয়েন্দা প্রধান)-র তৎপরতায় হোটেল মালিক বীরেশ্বর মিত্রের ঘনিষ্ট সহযোগী আবু জাফর এবং অন্য এক জমির মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক হোটেল মালিক বীরেশ্বর মিত্রের একাধিক হোটেল পরিচালনার তথ্য সামনে এসেছে। হোটেল যাপন নামের অপর একটি প্রতিষ্ঠানও তাঁরই মালিকানাধীন বলে জানা গেছে, যেখানে ধৃত ম্যানেজার ও কর্মীরা কর্মরত ছিলেন। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মেনে কীভাবে এই ধরনের ব্যবসা চলছিল, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ববর্তী সরকারের আমলের পরিকাঠামো ও নজরদারির অভাবকে নিশানা করে তিনি বলেন যে এই মর্মান্তিক ঘটনা ফের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা ও গাফিলতির দিকটি সামনে এনেছে। শহরের বহু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ফরেনসিক তদন্ত এবং উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনার আসল সত্য উদঘাটনের কাজ শুরু হয়েছে।