মার্কিন মন্তব্যেই কি কোপ? নয়াদিল্লিতে পাক হাইকমিশনের বাইরে উচ্ছেদ ব্যারিকেড ও বোলার্ড!

বুধবার নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনকে ঘিরে থাকা ট্রাফিক বোলার্ড ও ব্যারিকেডগুলি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল ভারত। কাশ্মীর সম্পর্কিত বিষয়ে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক একটি বার্তার ঠিক একদিন পরেই নয়াদিল্লির এই কড়া পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। পাকিস্তান হাইকমিশনের নির্ধারিত সীমানার বাইরে তৈরি হওয়া ওই অবৈধ কাঠামোগুলি ভেঙে ফেলা হয়েছে। একে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের আপোসহীন মনোভাব এবং পাকিস্তানের প্রতি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর প্রকাশিত ছবিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ও ব্যারিকেড পরিষ্কার নজরে এসেছে। এমনকি ভিসা বিভাগের কাছে থাকা কিউ-লাইনারগুলিও সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট। সেদিন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর পাকিস্তান ও আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করেন। গোর কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে বর্ণনা করেন। তাঁর এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ “তথ্যগতভাবে ভুল” এবং কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থানের পরিপন্থী বলে দাবি করে পাকিস্তান। জম্মু ও কাশ্মীরে নিজেদের প্রথম সফর শেষে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাফ জানান যে এই অঞ্চলটি ভারতের। সেই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে আমেরিকান নাগরিকদের এই উপত্যকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতে বেশ কিছু পরিবর্তন বা শিথিলতা আনা হতে পারে।
মার্কিন দূতের এমন মন্তব্যের পরেই তীব্র আপত্তি জানায় ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। ইসলামাবাদের মতে, জম্মু ও কাশ্মীর সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়টি রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ও স্থানীয় মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। এই তীব্র প্রতিক্রিয়ার পরই পাকিস্তান মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি বেকারকে তলব করে আনুষ্ঠানিক অসন্তোষ প্রকাশ করে।
এদিকে, এই গোটা পরিস্থিতি নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা মার্কিন দূতের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। তিনি জানান, নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীরের উন্নয়নে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হয়েছে। একদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য এবং অন্যদিকে নয়াদিল্লিতে পাক হাইকমিশনের বাইরে নিরাপত্তা বলয় হটিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পারদ এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে।