রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখল RBI! সাধারণ মানুষের পকেটে কি এর ফলে টান পড়বে?

দেশের খুচরো মূল্যবৃদ্ধি কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পরেও সাধারণ মানুষকে বড় স্বস্তি দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নীতিগত রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মনিটারি পলিসি কমিটি (MPC)।

কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত গৃহঋণ বা গাড়ির ঋণের ইএমআই (EMI) বাড়ছে না, যা মধ্যবিত্তের জন্য বড় স্বস্তির খবর। MPC-এর ছ’জন সদস্যই সর্বসম্মতভাবে রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর ফলে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি রেট ৫ শতাংশ এবং মার্জিনাল স্ট্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি বা ব্যাঙ্ক রেট ৫.৫০ শতাংশেই বজায় থাকছে।

রেপো রেট না কমানোর নেপথ্যে কী কারণ? চলতি বছরের জুনে ভারতের খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার বেড়ে হয়েছে ৪.৪ শতাংশ। এর আগে টানা ১৬ মাস তা RBI-এর নির্ধারিত ৪ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার নিচে ছিল। মূলত মে ও জুন মাসে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ সরবরাহজনিত সমস্যা। এই মুহূর্তে সুদের হার কমালে বাজারে চাহিদা আরও বেড়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়িয়ে দিতে পারত, আবার সুদের হার বাড়ালেও বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতো। সেই কারণে আপাতত সুদের হার পরিবর্তন না করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পথেই হেঁটেছে MPC।

অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদী RBI: দেশের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের প্রকৃত জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার ৬.৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত খরচ, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং পরিকাঠামো খাতে ব্যয়ের হাত ধরেই ভারতীয় অর্থনীতি এই স্থিতিশীল গতি বজায় রাখছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি সত্ত্বেও তাড়াহুড়ো করে কোনো বড় পদক্ষেপে না গিয়ে আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।