শর্টসার্কিট না অন্য কিছু? নিউমার্কেটের বিধ্বংসী আগুনে মৃতদের তালিকায় একই পরিবারের ৪ জন!

নিউমার্কেট এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত ৭ জনের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করল কলকাতা পুলিশ। বুধবার গভীর রাতের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। যার মধ্যে ৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ২ জন ভারতীয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃত বাংলাদেশিরা প্রত্যেকেই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় এসেছিলেন। বাকি দুই মৃতের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিহারের বাসিন্দা ১৯ বছরের সন্দীপ পাসওয়ান এবং শিলিগুড়ির ৬৮ বছরের যোগ নারায়ণ আগরওয়াল। অন্যদিকে, প্রাণ হারানো পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিক হলেন— আকরাম আলি (৭৪), দেবাশিস দত্ত (৩৯), আফশানা শরমিন (২৭) এবং মাত্র ২ বছর ৮ মাসের শিশু স্বর্ণাশিস দত্ত। এঁরা প্রত্যেকেই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া মৃত্যু হয়েছে বাবু আহমেদ (৩৭) নামের আরও এক বাংলাদেশি নাগরিকের।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার রাত দুটো নাগাদ। হঠাৎই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ওই হোটেলে আগুন লেগে যায়। গভীর রাতে আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। হোটেলের অন্দরে আটকে থাকা প্রায় ৬০ জন অতিথিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, ঘন ধোঁয়ার জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকে। বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকল বাহিনী। প্রাথমিক অনুমান, শর্টসার্কিটের ফলেই এই বিপত্তি ঘটেছে।

এদিকে ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তরজা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। তিনি জানান, বহুতল ভবনটির পরিকাঠামো অত্যন্ত জীর্ণ ছিল এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ যথাযথ অগ্নিসুরক্ষা বিধি মানেনি। কীভাবে এই ধরনের একটি ভবনে হোটেল চালানোর ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।