‘জম্মু-কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ’,-শ্রীনগরে বড় মন্তব্য আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের

ভারতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানে বড়সড় সিলমোহর দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার প্রথমবার শ্রীনগর সফরে এসে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে জোরালোভাবে উল্লেখ করলেন আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরেই এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসে। ৩৭০ ধারা বাতিল এবং পহেলগাঁও ঘটনার পর এটিই আমেরিকার পক্ষ থেকে প্রথম একক কাশ্মীর সফর।

সফরের শুরুতেই মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, এই অঞ্চলে আসতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং জায়গাটি অবিশ্বাস্য রকমের সুন্দর। কূটনৈতিক মহলের মতে, গোরের এই প্রকাশ্য মন্তব্য ভারতের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি আমেরিকার এক বড় কূটনৈতিক সমর্থন। ভারত বরাবরই আন্তর্জাতিক মঞ্চে জম্মু ও কাশ্মীরকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে, আর সেখানে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রতিনিধির এমন দ্ব্যর্থহীন মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

ভারত ও আমেরিকার দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত অংশীদারিত্ব যখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই এই সফর অত্যন্ত গুরুত্ব পাচ্ছে। কিছুদিন আগেই সন্ত্রাসবাদ দমন এবং দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বিশেষ আলোচনায় বসেছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। কূটনৈতিক ইতিহাস বলছে, প্রায় পনেরো বছর পর আমেরিকার কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত সরাসরি জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসলেন। এর আগে ২০১১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রদূত টিমোথি রোমার ওমর আবদুল্লার সঙ্গে এই ধরনের বৈঠক করেছিলেন। তাছাড়া, ২০১৮ সালের পর এটিই আমেরিকার কোনো শীর্ষ ডিপ্রোমাটের একক কাশ্মীর সফর।

এদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে গোটা বিষয়টিকে অতিরিক্ত কূটনৈতিক গুরুত্ব দিতে নারাজ ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, কাশ্মীরের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য ওয়াশিংটনের কাছে কোনো আর্জি জানানো হবে না। রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার ন্যাশনাল কনফারেন্স সরকারের প্রধান ওমর সাফ জানিয়েছেন, বিদেশের কোনো প্রতিনিধির কাছে নিজের দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে নালিশ জানানো তাঁর কাজের ধারা নয়। স্থানীয় সরকারের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য হলো, এই অঞ্চলের যাবতীয় সমস্যার সমাধান দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারকেই করতে হবে, বিদেশি কোনো শক্তি নয়।