ঘুম ভাঙার পরেই কি বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি? চিকিৎসকদের এই গোপন তথ্য না জানলে বড় বিপদে পড়বেন!

প্রতিদিনের ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনে আমাদের স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা যেন এক নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিগুলো আজকাল আমাদের চারপাশে এক নীরব মহামারীর রূপ নিয়েছে। তবে বিশ্বখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণা এক অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও চমকে দেওয়া তথ্য সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, অন্যান্য সময়ের তুলনায় দিনের একেবারে শুরুর ভাগে, অর্থাৎ সকালের দিকে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি মাত্রায় থাকে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই চিকিৎসা মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে, কারণ সাধারণ মানুষ সবসময় মনে করেন যে সকালের শান্ত পরিবেশ স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে উপকারী।
চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং শারীরতত্ত্বের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মানব শরীরের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম (Circadian Rhythm) এবং রক্তপ্রবাহের বিশেষ পরিবর্তনের কারণেই মূলত এই মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। যখন কোনো ব্যক্তি রাতে ঘুমিয়ে থাকেন এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার প্রস্তুতি নেন, ঠিক সেই সংবেদনশীল সময়ে শরীরের ভেতরের হরমোনের ভারসাম্য ও রক্তচাপের মধ্যে বড় ধরনের ওঠানামা শুরু হয়। বিশেষ করে ঘুম ভাঙার ঠিক পরপরই শরীরে স্ট্রেস হরমোন যেমন কর্টিসল এবং অ্যাডেনালিনের মাত্রা হঠাৎ করে দ্রুত গতিতে বাড়তে শুরু করে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে মানবদেহের রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং রক্তচাপ ও হার্ট রেট একলাফে অনেকটা বৃদ্ধি পায়। এই আকস্মিক চাপ সহ্য করতে না পেরে রক্তনালীতে জমে থাকা কোনো ছোট চর্বির আস্তরণ বা প্ল্যাক ফেটে যেতে পারে, যার ফলে সঙ্গে সঙ্গে রক্ত জমাট বেঁধে মারাত্মক হার্ট অ্যাটাকের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হয়।