নদীর ধারে সেলফি তোলার খেসারত দিতে হতে পারে বড় মাশুল! উত্তরাখণ্ডে মহাবিপদের অ্যালার্ট জারি প্রশাসনের

দেরাদুনে একটানা ভারী বর্ষণে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সারারাত ধরে চলা মুষলধারে বৃষ্টির জেরে তমসা নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে। জলের তোড়ে প্লাবিত হয়েছে দেরাদুনের অন্যতম ঐতিহাসিক এবং সুপরিচিত টপকেশ্বর মহাদেব মন্দির। মন্দিরের চত্বর এখন সম্পূর্ণ জলমগ্ন। নদীর জল স্বাভাবিক সীমা অতিক্রম করে মন্দিরের গর্ভগৃহ এবং অন্যান্য অংশে ঢুকে পড়ায় ভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিকূল এই আবহাওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ থমকে গেছে। একটি বিশাল গাছ উপড়ে পড়ে রাস্তার পাশে থাকা একাধিক গাড়ির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে।

শুধু দেরাদুন নয়, পুরো গাড়োয়াল ডিভিশনের পাহাড়ি অঞ্চলেও প্রকৃতির তাণ্ডব চলছে। প্রধান নদীগুলির জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় জেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। গাড়োয়ালের কমিশনার আনন্দ স্বরূপ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, চলতি বর্ষাকালে একাধিক দুর্যোগপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে এবং সাধারণ মানুষকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রবল বর্ষণের জেরে এই অঞ্চলে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক অবনতিতে। তেহরি গাড়োয়ালের জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিক (DDMO) ব্রিজেশ ভাট জানান, ডিমটা বেন্ডের পর জাতীয় সড়ক-৭০৭এ (কেম্পটি-যমুনপুল) সম্পূর্ণভাবে জলের স্রোতে ভেসে গেছে। ডিমটা বেন্ড ও জীবন আশ্রমের সংযোগকারী রাস্তা ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাওয়ায় এনএইচ-৭০৭এ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। এই হাইওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সমস্ত যান চলাচল মুসৌরি বেন্ড হয়ে বিকাশ নগরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, দেবপ্রয়াগের কাছে ঋষিকেশ-কীর্তিনগর রুটেও বড় আকারের ভূমিধসের কারণে ধ্বংসস্তূপে বন্ধ হয়ে গেছে এনএইচ-০৭। পাশাপাশি, আটটি প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (PMGSY) এবং সাতটি পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (PWD)-এর রাস্তা অবরুদ্ধ রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কিছু কিছু এলাকায় দৈনিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে গেছে। দেরাদুনে তমসা ছাড়াও টোনস, আসান এবং রিস্পানা নদীর জলস্তরও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর তীব্র স্রোত ও ভূমিধসের জেরে পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা এবং চারধাম যাত্রাসহ সমস্ত তীর্থযাত্রীদের জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে প্রশাসন। মাইকিংয়ের মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক ঘোষণা করা হচ্ছে। কাউকে নদীর কাছাকাছি না যাওয়ার এবং সেলফি তোলার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া ও রাস্তার বেহাল দশার কারণে যাত্রাপথ বিঘ্নিত হলে যাত্রীদের প্রশাসনের দেওয়া গাইডলাইন ও নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং পর্যটকদের সুরক্ষায় প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।