“বিশ্বজুড়ে হু হু করে বাড়ছে মিষ্টির দাম”-চিনি রফতানিকারক দেশ আজ নিজেই সঙ্কটে!

সামনে একের পর এক উৎসবের মরশুম। মুম্বইয়ের গণেশ পুজো থেকে দুর্গাপুজো এবং দিওয়ালি—উৎসবের এই আনন্দঘন সময়ে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ছে চিনির চড়া দামে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে ইথানলের দামের কারণে চিনির দামে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে অন্য কথা। দেশজুড়ে বর্তমানে চিনির তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যে ভারত একসময় সারা বিশ্বে চিনি রফতানি করত, আজ পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে তাদের বিশ্ববাজার থেকে চিনি আমদানি করার কথা ভাবতে হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে অনুমিত উৎপাদনের চেয়ে ফলন কম হওয়া, উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে চাহিদা তুঙ্গে পৌঁছানো, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় আখের ক্ষতি এবং কিছু ক্ষেত্রে মজুতদারির মতো বিষয়গুলোই দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী। চলতি মরশুমে চিনির উৎপাদন ৩০৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন হবে বলে আশা করা হয়েছিল, অথচ প্রাথমিক অনুমান ছিল প্রায় ৩৪৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন। চাষিদের দাবি, আখের ফসল রেড রট ও টপ বোরার রোগের কবলে পড়েছে। পাশাপাশি অসময়ে ভারী বৃষ্টি ও জল জমার কারণেও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে সরকারের দাবি, অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত মজুত এখনও রয়েছে।

চিনির এই খরা কেবল ভারতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিশ্বজুড়েই এক ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম আখ উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিলও এর বাইরে নয়। বিশ্ব উৎপাদনের ২৪ শতাংশ একা ব্রাজিল করলেও বর্তমানে সেখানেও চিনির ঘাটতি স্পষ্ট। ব্রাজিলের ন্যাশনাল সাপ্লাই এজেন্সি ‘কনাব’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে চিনির উৎপাদন প্রায় ৩ শতাংশ কমে যেতে পারে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে ব্রাজিলের ইথানল উৎপাদন বৃদ্ধির প্রবণতা। জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আখ সরাসরি ইথানল তৈরিতে ব্যবহার করায় চিনি উৎপাদনে টান পড়েছে। এছাড়া এল নিনোর প্রভাবে ব্রাজিলের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিতে দেরি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি আখের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।

অন্যদিকে, থাইল্যান্ডের মতো প্রধান আখ উৎপাদনকারী দেশও আবহাওয়ার মার খাচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানির এই সংঘাত এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। সবমিলিয়ে, চিনির বাজারে যে জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের কথাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।