ছাত্র বিক্ষোভে অস্ত্রের ব্যবহার! সরকারের বিরুদ্ধে খুনি তকমা দিয়ে সোচ্চার আরজেডি সাংসদ

আজ পাটনার রাজপথ সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক উত্তেজনার। প্রশ্নপত্র ফাঁস, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং সিওয়ানে ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের অস্ত্র ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগকে সামনে রেখে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-এর পক্ষ থেকে এক বিশাল রাজভবন অভিযানের আয়োজন করা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা তেজস্বী যাদবের পাশাপাশি এই প্রতিবাদ মিছিলে সশরীরে অংশ নেন বিশিষ্ট আরজেডি সাংসদ মিসা ভারতীও। মিছিলটি চলাকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে মিসা ভারতী প্রশ্ন তোলেন যে, শান্তিপূর্ণ ছাত্র বিক্ষোভে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহারের অনুমতি আসলে কে দিয়েছিল?

আন্দোলনের মাঝেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মিসা ভারতী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের প্রতি যে চরম অবিচার চলছে, তার প্রতিবাদে গত ২০-২৫ দিন কেটে গেলেও এই সরকারের টনক নড়েনি। খোদ বিহার সরকার সুপ্রিম কোর্টে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে বিক্ষোভে একে-৪৭ ব্যবহার করা হয়েছিল। দেশের বিচারপতির উচিত ছিল সরকারের আইনজীবীর কাছে কড়া জবাব তলব করা যে, সাধারণ ছাত্র আন্দোলনে পুলিশ বা প্রশাসনকে এই ধরনের মারণাস্ত্র ব্যবহারের লাইসেন্স কে দিয়েছিল?” শুধু তাই নয়, সরাসরি বর্তমান বিহার সরকারকে ‘খুনি সরকার’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এবং যুব সমাজের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ ধ্বংস করাই এই প্রশাসনের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবিলম্বে সিওয়ানের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) এবং পুলিশ সুপার (এসপি)-কে বরখাস্ত না করা হলে এই আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে তিনি হুংকার ছাড়েন।

এদিকে, আরজেডি-র এই সুশৃঙ্খল মিছিল যখন রাজভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখন ডাক বাংলো মোড় ও আয়কর চত্বরের কাছে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশাল ব্যারিকেড তৈরি করে পথ আটকানো হয়। কিন্তু বিক্ষুব্ধ কর্মীরা সেই ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পরিস্থিতি চরমে ওঠে। জনস্রোত নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ শেষপর্যন্ত জলকামান ও ব্যাপক বলপ্রয়োগ করে। এই তুলকালাম পরিস্থিতির মধ্যেই পুলিশ প্রশাসন বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদবসহ একাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

হেফাজতে যাওয়ার ঠিক প্রাক্কালে তেজস্বী যাদব বর্তমান রাজ্য সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, এই দমনপীড়ন চালিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। তেজস্বী বলেন, “আমাদের এই সুশৃঙ্খল মিছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে রাজভবনের দিকে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পুলিশ গায়ের জোরে আয়কর দপ্তরের কাছে আমাদের পথ আটকে দিল। সরকার আজ ভয় পেয়েছে। কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, আমরা জেল বা পুলিশি জুলুমকে বিন্দুমাত্র ভয় পাই না।” তিনি আরও বলেন, রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের মৌলিক অধিকার, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব দূরীকরণ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো কলঙ্কজনক দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ করা, স্বচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা এবং উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার লড়াইয়ে আরজেডি শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ে যাবে।