মহাকাশ অভিযানের মাঝেই আটকে গেল গুরুত্বপূর্ণ কাজ! মঙ্গলবার কি তবে বড় চমক দেখাতে চলেছেন অনিল মেনন?

মহাকাশ গবেষণার অন্তরীক্ষে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস-এর (ISS) বিজ্ঞানীদের। নির্ধারিত সময়ের ব়্যাশন ও কাজের চাপের কারণে মহাকাশ স্টেশনের বাইরে নির্ধারিত স্পেসওয়াকের কাজ সম্পূর্ণ করতে পারলেন না দুই নভোচারী। এই দলে রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাসা (NASA) নভোচারী অনিল মেনন এবং ফরাসি মহাকাশচারী সোফিয়া অ্যাডেনট। সাম্প্রতিক এই স্পেসওয়াকের মূল লক্ষ্য ছিল মহাকাশ স্টেশনের একটি ত্রুটিযুক্ত কমিউনিকেশন অ্যান্টেনা সম্পূর্ণভাবে মেরামত বা প্রতিস্থাপন করা। কিন্তু সময়ের অভাবে সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ মিশন মাঝপথেই স্থগিত রাখতে বাধ্য হন তাঁরা।

মহাকাশ স্টেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আইএসএলে মোট দুটি ‘স্পেস-টু-গ্রাউন্ড’ অ্যান্টেনা রয়েছে, যার মাধ্যমে পৃথিবীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। কিন্তু গত বেশ কয়েক মাস ধরে এই অ্যান্টেনগুলির মধ্যে একটিতে মারাত্মক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে একটিমাত্র সচল অ্যান্টেনার সাহায্যে সমস্ত কাজ চালানো হলেও জটিল ডাটা ট্রান্সফার বা ডেটা আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্যই গত ১৯ আগস্ট ইটিডি সময় অনুযায়ী সকাল ৮টা বেজে ২৯ মিনিটে স্পেসওয়াকের কাজ শুরু করেছিলেন অনিল ও সোফিয়া। এই কাজের জন্য মোট ৬ ঘণ্টা ২৩ মিনিট সময় বরাদ্দ করা হয়েছিল।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা-র তরফে জানানো হয়েছে, দুই নভোচারী অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে পুরনো ও খারাপ অ্যান্টেনাটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে খুলতে সফল হয়েছিলেন। কিন্তু সেই জায়গায় নতুন অ্যান্টেনাটি নিখুঁতভাবে প্রতিস্থাপন করার জন্য যে জটিল প্রক্রিয়াগুলোর প্রয়োজন ছিল, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে শক্তভাবে আটকে থাকা পাওয়ার ও ডেটা কেবলগুলি আলাদা করা, অ্যান্টেনার গিম্বল অ্যাসেম্বলিতে লকিং পিন বসানো এবং মূল বুম থেকে পুরনো যন্ত্রাংশ খুলে ফেলার কাজে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সময় অপচয় হয়। ফলে সেই মুহূর্তে দ্বিতীয় অ্যান্টেনাটি সফলভাবে ইনস্টল করা সম্ভব হয়নি।

তবে এই অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে আগামী মঙ্গলবার ফের একবার মহাকাশচারীরা স্পেসওয়াক করবেন বলে ঠিক হয়েছে। সেই বিশেষ অভিযানেই বাকি কাজ সম্পূর্ণ করে অ্যান্টেনাটি পুরোপুরি সচল করা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের গত ১৫ জুলাই রাশিয়ার তৈরি ‘সয়ুজ এমএস ২৯’ (Soyuz MS 29) মহাকাশযানে চড়ে অত্যন্ত সফলভাবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পা রেখেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অনিল মেনন। এটি তাঁর জীবনের প্রথম মহাকাশ অভিযান। এই দীর্ঘ মিশনে তিনি টানা আট মাস আইএসএস-এ অবস্থান করবেন এবং মহাকাশ বিজ্ঞানের বিভিন্ন জটিল প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে গবেষণা চালাবেন।