অস্ত্রোপচারের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই বড় বিপর্যয়! শোকের পাহাড়ে ভেঙে পড়লেন জুনিয়র এনটিআর

কাঁধের মারাত্মক অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করার পর সবেমাত্র চিকিৎসকদের পরামর্শে নিজ বাসভবনে ফিরেছিলেন দক্ষিণী সিনেমার মেগাস্টার তথা জনপ্রিয় ‘আরআরআর’ খ্যাত অভিনেতা জুনিয়র এনটিআর (Jr NTR)। কিন্তু হাসপাতাল থেকে ঘরে ফেরার রেশ কাটতে না কাটতেই বড় ধরনের এক ব্যক্তিগত শোকের মুখোমুখি হলেন এই তারকা। বুধবার সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এক আবেগঘন বার্তা দিয়ে অভিনেতা নিজেই জানান যে, তাঁর অত্যন্ত স্নেহের এবং আদরের পোষ্য বাঘিরা অনন্তকালের মতো তাঁকে ছেড়ে চলে গেছে। পোষ্যের এই আকস্মিক প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত হয়ে অভিনেতা তার সঙ্গে কাটানো বহু সুন্দর ও পুরোনো মুহূর্তের কিছু দুর্লভ ছবি অনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ার করেন এবং অত্যন্ত ভারী মন নিয়ে লেখেন, “তোমার এই হঠাৎ অনুপস্থিতি আমার জীবনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।”
নিজের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে মৃত পোষ্য বাঘিরার একাধিক ছবি পোস্ট করে জুনিয়র এনটিআর লেখেন, “তুমি আমার জীবনে প্রথম এসেছিলে একজন সঙ্গী হিসেবে, আর দেখতে দেখতে কখন যেন নিঃশব্দে আমাদের পুরো পরিবারের একজন অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলে। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, চূড়ান্ত বিশ্বস্ততা, মিষ্টি দুষ্টুমি আর এক অপূর্ব প্রশান্তিতে আমার প্রতিটি দিন তুমি ভরিয়ে তুলতে, যা একমাত্র তোমার পক্ষেই সম্ভব ছিল। তোমার এই প্রয়াণ আমাদের জীবনে এক বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করলেও, তুমি যে গভীর ভালোবাসার স্মৃতি পেছনে রেখে গেছ তা সত্যিই ভোলার নয়। আমার মতো একজন মানুষকে বেছে নেওয়ার জন্য, জীবনের কঠিন পথে আমার পাশে চলার জন্য এবং আমার জীবনের এই গত চারটে বছরকে বড্ড বেশি সুন্দর করে তোলার জন্য তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। এবার তুমি সব বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে মেঘের দেশে ছুটে বেড়াও, আমার ছোট্ট সোনা। তোমাকে প্রাণভরে ভালোবেসেছি এবং ভবিষ্যতেও আমাদের এই ভালোবাসা কোনোদিন কমবে না।”
এদিকে প্রিয় তারকার এমন আকস্মিক শোকের খবরে স্বাভাবিকভাবেই গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন তাঁর অগণিত ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকস্তব্ধ অভিনেতার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাঁরা নানা মন্তব্য করেছেন এবং এই কঠিন সময়ে তাঁকে মানসিকভাবে শক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি অনুরাগীদের এই ভালোবাসার বার্তা কিছুটা হলেও অভিনেতাকে সান্ত্বনা জোগাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পেশাগত জীবনেও বর্তমানে বেশ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এই অভিনেতা। জানা গিয়েছে, তাঁর আসন্ন হাই-ভোল্টেজ সিনেমা ‘ড্রাগন’ (Dragon)-এর একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং চলাকালীন তিনি ডান কাঁধে মারাত্মক গুরুতর চোট পান। চোটের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে চিকিৎসকরা দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন এবং অস্ত্রোপচারই একমাত্র পথ বলে জানান। গত ১২ আগস্ট হায়দরাবাদের বিখ্যাত সিকন্দরাবাদের কিমস হাসপাতালে (KIMS Hospitals) ডক্টর আর এ পূর্ণচন্দ্র তেজস্বী, ডক্টর নিতিন বেজ্জঙ্কি, ডক্টর মধুসূদন রাও এবং ডক্টর শ্রীনিবাস রাও সুরপানেনির মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জনদের একটি দক্ষ দল তাঁর এই জটিল কাঁধের অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেন। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক জীবনে সম্পূর্ণভাবে ফিরে আসতে এবং আগের মতো ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে তাঁর আনুমানিক ২ থেকে ৩ মাস সময় লাগবে। আপাতত তিনি চিকিৎসকদের কঠোর নজরদারিতে থেকে একটি নির্ধারিত রিহ্যাবিলিটেশন ও ফিজিওথেরাপির নিয়মিত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।
ব্যক্তিগত ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে একাধিক প্রতীক্ষিত বিগ বাজেটের সিনেমা। ‘কেজিএফ’ এবং ‘সালার’ খ্যাত সফল পরিচালক প্রশান্ত নীলের পরিচালনায় আসছে বহুল চর্চিত অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘ড্রাগন’। এই সিনেমাটিতে জুনিয়র এনটিআরকে ‘লুগার’ (Luger) নামের এক দুর্ধর্ষ এজেন্টের রোমাঞ্চকর চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে। ছবিটিতে তাঁর বিপরীতে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুক্মিণী বসন্ত। এছাড়া এই প্রজেক্টে অনিল কাপুর এবং বিজু মেননের মতো প্রবীণ ও শক্তিশালী অভিনেতারাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন। নির্মাতা সূত্রে খবর, সমস্ত কাজ ঠিকঠাক এগোলে আগামী বছরের ১১ জুন এই বিগ বাজেট সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
শুধু ‘ড্রাগন’ই নয়, জুনিয়র এনটিআরের আপকামিং সিনেমার তালিকায় রয়েছে আরও বেশ কিছু বড় নাম। এর মধ্যে পরিচালক কোরাতলা শিবার পরিচালনায় বহুল প্রতীক্ষিত ‘দেভারা: পার্ট ২’ (Devara: Part 2)-এর কাজও তালিকায় রয়েছে। এছাড়া প্রখ্যাত পরিচালক ত্রিবিক্রম শ্রীনিবাসের পরিচালনায় আরও একটি নতুন সিনেমার কাজ তাঁর হাতে রয়েছে, যদিও সেই সিনেমার আনুষ্ঠানিক নাম এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত করা হয়নি। একের পর এক বড় প্রজেক্ট এবং ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন লড়াইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে জুনিয়র এনটিআর কীভাবে নিজেকে সামলে নেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।