‘ভগবান বাঁচিয়েছেন!’ ঘুমন্ত অবস্থায় আগুন, অল্পের জন্য মৃত্যুপুরী থেকে ফিরল মালদার পরিবার।

শ্রাবণ মাসে মা তারার দর্শন পেতে তারাপীঠে গিয়ে অকাল মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এল মালদার নসিপুরের তিওয়ারি পরিবার। সোমবার ভোরে তারাপীঠ থানার কাছে ‘বিদেশিনী’ নামের এক পাঁচতলা হোটেলে হঠাৎ লেগে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে যখন ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, তখন এক গাড়ি চালকের তৎপরতায় অলৌকিকভাবে রক্ষা পেলেন তিওয়ারি পরিবারের সাত সদস্য।

সোমবার ভোরের দিকে যখন গোটা তারাপীঠ ঘুমন্ত, তখনই হোটেলের রিসেপশন এলাকার এসি-র এমসিবি (MCB) থেকে শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। নিমেষের মধ্যে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পাঁচতলার ওই হোটেল। সেই সময় হোটেলের একটি ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছিলেন তিওয়ারি পরিবারের সাতজন। ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁদের গাড়ি চালক হোটেলের অবস্থা বুঝে চিৎকার করে সকলকে সতর্ক করেন। ওই চিৎকারে ঘুম ভাঙতেই পরিবারের সদস্যরা দেখেন, চারিদিকে ঘন ধোঁয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। প্রাণ বাঁচাতে তড়িঘড়ি তাঁরা হোটেলের বারান্দায় আশ্রয় নেন।

 বারান্দায় দাঁড়িয়ে তখন বাঁচার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। চারপাশে আতঙ্ক ও আর্তনাদ। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী। দীর্ঘ দু’ঘণ্টার শ্বাসরোধী পরিস্থিতির পর দমকলকর্মীরা তিওয়ারি পরিবারের সাত সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ঈশ্বরের কৃপায় তাঁদের কারও কোনো চোট বা আঘাত লাগেনি। সোমবার রাত ৮টা নাগাদ মালদার নসিপুরের বাড়িতে ফেরেন তাঁরা। ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও, সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা মনে করে আজও শিউরে উঠছেন পরিবারের সদস্য টুম্পা পান্ডে তিওয়ারি।

এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই হোটেল মালিক প্রবীর পাল এবং তাঁর ছেলে কল্যাণ পালকে গ্রেপ্তার করেছে রামপুরহাট থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিটই অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ বলে অনুমান করা হচ্ছে। হোটেলটির ঠিক পেছনে একটি পুকুর থাকায় প্রাণ বাঁচাতে অনেকে সেখানে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। পুকুরের জলে ডুবে আর কোনো প্রাণহানি হয়েছে কি না, সে বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।